আপনি যা জানতে চেয়েছেন

১-৫ টি ২৩১৫ টি প্রশ্ন হতে
  • ৪০৬৭ . মুহাম্মাদ আলমগীর বখশ . কুমরীরহাট, লালমনিরহাট
    প্রশ্ন:

    মুহতারাম, আমার বাবা এবং বড় ভাই একসাথে ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় উভয়েই ইন্তেকাল করেন। আমরা গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করি। আমার বড় ভাইয়ের একজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে রয়েছে। জানার বিষয় হল, আমার বড় ভাই কি আমার বাবার সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কোন অংশ পাবে। যা আমরা তার সন্তানদের মাঝে বণ্টন করে দিতে পারি? কেননা এমন তো হতে পারে বাবার মৃত্যু ভাইয়ের মৃত্যুর আগেই হয়েছে। তাছাড়া এক ভাই বললেন, বর্তমানে মেডিকেল টেষ্ট করার মাধ্যমে মৃত্যুর সময়কাল জানা যায়।

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু কার মৃত্যু আগে হয়েছে তা সুনিশ্চিতভাবে জানা নেই তাই এক্ষেত্রে শরীয়াতের বিধান হল কেউ কারো থেকে মীরাছ পাবে না। অতএব আপনার ঐ মৃত ভাই বাবা থেকে মীরাছ পাবে না।

    এক বর্ণনায় এসেছে,

    عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ لَا يُوَرِّثُ الْمَيِّتَ مِنَ الْمَيِّتِ إِذَا لَمْ يُعْرَفْ أَيُّهُمَا مَاتَ قَبْلَ صَاحِبِهِ .

    আতা রহ. বলেনদুই ওয়ারিশের কে আগে মারা গেছে তা জানা না গেলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উভয়ের মাঝে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ বণ্টন করতেন না। -মুস্তাদরাকে হাকেমহাদীস ৮০৭৬

    আর মেডিকেল টেস্ট এখন পর্যন্ত ঐ মানে পৌঁছায়নি যার মাধ্যমে এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। কোনো কোনো সময় একই রোগের টেস্ট পৃথক পৃথক ল্যাবে করালে ফলাফলে ভিন্নতাও দেখা যায়। তাই এর উপর ভিত্তি করে কার মৃত্যু আগে হয়েছে তা নিশ্চত হওয়া যায় না।

     

    উল্লেখ্য যেআপনার মৃত ভাই যদিও বাবার মীরাস পাবে না কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশগণ মিলে তার স্ত্রী-সন্তানদেরকে সম্পদের হিস্যা দিতে পারবে। এবং এভাবে দিলে তা উত্তম কাজ হবে।

    -আলমাবসূত, সারাখসী ৩০/২৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৪০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৯৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৯৯
  • ৪০৬৬ . মুহাম্মাদ মুফীজুর রহমান . ওয়েব থেকে প্রাপ্ত
    প্রশ্ন:

    আমি একজন সরকারী চাকুরীজীবী, আমার প্রশ্ন হল

    ১. একজন সরকারী কর্মচারী এখন চাইলে মূল বেতনের কমপক্ষে ৫% বাধ্যতামূলক এবং সর্বোচ্চ ২৫% টাকা ঐচ্ছিক কর্তন করাতে পারেন। জিপি ফান্ডের সরকার প্রদত্ব অংশ বা সুদ নেওয়া জায়েয কি না?

    ২. আমি জিপি ফাণ্ডের সরকার প্রদত্ত অংশ বা সুদ নেব না। কিন্তু এই টাকা দিয়ে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া ঠিক হবে কি না। অথবা এই টাকা দিয়ে নিতান্ত অপারগতার কারণে অন্য কোনো সরকারী কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে পারব কি না?

     

     

    উত্তর:

    সরকারী প্রতিষ্ঠানে জিপি ফান্ডে বেতনের যতটুকু অংশ বাধ্যতামূলক কেটে রাখা হয় তার সাথে সরকার প্রদত্ত অতিরিক্ত অংশ কর্মচারীর জন্য ব্যবহার করা জায়েয। সরকার এটাকে সুদ বললেও শরীয়তের দৃষ্টিতে তা রিবা তথা সুদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত জিপি ফান্ডে কর্তন করানো জায়েয নেই। যদি কেউ অতিরিক্ত কর্তন করে তাহলে স্বেচ্ছায় জমার উপর প্রাপ্ত অতিরিক্ত সকল টাকা গরীবদেরকে সদকা করে দিতে হবে।

    আর সুদের টাকা দ্বারা ট্যাক্স দেওয়া বা কাউকে ঘুষ দেওয়া জায়েয হবে না। ঐ টাকা গরীবদেরকে সদকাই করে দিতে হবে। কারণ ঐ টাকা দিয়ে টেক্স বা ঘুষ দিলে তা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার হয়ে যায়।

    উল্লেখ্যঘুষ দেওয়া-নেওয়া যে হারাম ও অভিশপ্ত কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    -আহকামুল কুরআন জাসসাস ১/৪৬৭; ইমদাদুল আহকাম ১/৪৭৯
  • ৪০৬৫ . আলী আছগর . ঝালকাঠি
    প্রশ্ন:

    আমার বন্ধুর বারো হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল তার কাছে থেকে কয়েকদিন ব্যবহার করার জন্য নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। মোবাইলটি পাঞ্জাবীর সাইড পকেটে ছিল। পকেটে কোনো চেইন ও ছিল না। বাসে খুব ভীড় ছিল। বাস থেকে নেমে দেখি, মোবাইল নেই। আমার জানার বিষয় হল, মোবাইলটির ক্ষতি পূরণ দেওয়া কি আমার জন্য জরুরি?

     

    উত্তর:

    আপনার বন্ধু যদি মোবাইলটির জরিমানা দাবি করে তবে দিয়ে দেওয়াই উচিত। কেননাআমাদের দেশের বর্তমান অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে ও জনসমাগমে চলাবস্থায় মোবাইল ইত্যাদি পাঞ্জাবীর সাইড পকেটে রাখা মোটেও নিরাপদ নয়।

    সুতরাং পাঞ্জাবীর পাশের পকেট থেকে যেহেতু তা চুরি হয়েছে তাই আপনার পক্ষ থেকে এর হেফাজতের ব্যাপারে কিছু ত্রুটি হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। তাই আপনাকে এর জরিমানা দিতে হবে।

    -আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৪৮; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৭৮
  • ৪০৬৪ . সাঈদ আহমাদ . উত্তরা, ঢাকা
    প্রশ্ন:

    দুই বছর পূর্বে আমি আমার বড় ভাই থেকে আঠারো লক্ষ টাকা নিয়ে একটি কাপড়ের দোকান দিয়েছি। কথা ছিল, তার মূলধন দিয়ে আমি ব্যবসা করব। আর লভ্যাংশ আমরা সমানভাবে ভাগ করে নিব। কিন্তু দুই বছরে আমি তাকে কোনো লাভ দিতে পারিনি। কারণ, ব্যবসাটা যেহেতু মাত্র শুরু তাই ডেকোরেশন ও অন্যান্য খাতে প্রচুর খরচ হয়ে গেছে। আর মানুষের মাঝে তেমন পরিচিতিও হয়ে উঠেনি। এখন আমার ভাই এই ব্যবসা বাদ দিয়ে তার মূলধন ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছেন। আমি চাচ্ছি, ব্যবসাটা ধরে রাখতে। কেননা, আমার প্রবল ধারণা, ব্যবসাটা থেকে ভবিষ্যতে লাভ আসবে। আর এখন যদি ব্যবসাটা বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে আমার এত দিনের শ্রম সম্পূর্ণ বৃথা যাবে। তাই জানার বিষয় হল, আমার ভাই যদি স্বেচ্ছায় ব্যবসাটা রাখতে না চায় তাহলে তাকে তা অব্যাহত রাখতে বাধ্য করতে পারব কি না?

     

     

    উত্তর:

    আপনার ভাইয়ের সাথে ব্যবসার উক্ত চুক্তিটি মোদারাবা চুক্তি। আর মুদারাবার মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগকারী চাইলে তার চুক্তি শেষ করে দেয়ার অধিকার রাখে। কারণব্যবসা চলমান থাকলে যেমনিভাবে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তেমনিভাবে পুঁজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সুতরাং আপনার ভাই চাইলে তার পুঁজি ফেরত নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে চুক্তি রাখার জন্য তাকে বাধ্য করা জায়েয হবে না। বরং সে পুঁজি চাইলে দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য সেক্ষেত্রে বর্তমানে দোকানে বিক্রিযোগ্য সে সকল মালামাল রয়েছে সেগুলো বিক্রি হওয়া ও চূড়ান্ত হিসাব হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। 

    -বাদায়েউস সনায়ে ৫/১৫২; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১৮৮; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৫৫
  • ৪০৬৩ . মীযানুর রহমান . খাগড়াছড়ি
    প্রশ্ন:

    আমি একটি সরকারী চাকুরিতে কর্মরত আছি। আমার বেতনের নির্দিষ্ট একটা অংক প্রতি মাসে সরকার প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামুলক কেটে রাখে। যার উপর চাকুরি শেষে অধিক হারে সুদ দেওয়া হবে। এখন আমার প্রশ্ন হল-

    ১. মূল বেতনের অতিরিক্তটা নেওয়া কি আমার জন্য বৈধ হবে?

    ২. এই টাকার উপর কি প্রতি বছর আমাকে যাকাত দিতে হবে?

     

     

    উত্তর:

    ১. সরকারী প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক জিপি ফান্ডে যতটুকু জমা করা আবশ্যক শুধু ততটুকু রাখা হলে জমাকৃত অংশ এবং অতিরিক্ত অংশ পুরোটাই আপনার জন্য বৈধ। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশকে সরকারীভাবে সুদ বলা হলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে তা সুদের অন্তর্র্ভুক্ত নয়।

    ২. ঐ টাকা হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার উপর যাকাতও ফরয নয়। হস্তগত হওয়ার পর থেকে তা যাকাতযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।

    প্রকাশ থাকে যেপ্রভিডেন্ট ফান্ডে যতটুকু বাধ্যতামূলক কেটে রাখা হয় তার চে বেশি কাটানো নাজায়েয। অতিরিক্ত কাটালে শুধু কর্তিত টাকা অর্থাৎ জমাকৃত টাকা হালাল হবে। স্বেচ্ছায় জমার উপর অতিরিক্ত যা দেওয়া হবে তা সুদ ও হারাম হবে। আর কেউ যদি স্বেচ্ছায় জিপি ফান্ডে জমা করে তাহলে মূল জমার উপর তাকে বছরান্তে যাকাত দিতে হবে। 

    -মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ২৭৯; আহকামুল কুরআন জাসসাস ১/৪৬৭; ইমদাদুল আহকাম ১/৪৭৯

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে মাহে রমযান