মে-জুন ২০১৭ . মে-জুন ২০১৭

চলতি সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০৫

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৪০৯৩ . আব্দুল করীম . ফরিদপুর
    প্রশ্ন:

    আমি নয় লক্ষ টাকা দিয়ে একটি মুদি দোকান দিতে যাচ্ছি। যার মধ্যে চার লক্ষ নিয়েছি আমার এক বন্ধু থেকে। বন্ধুর শর্ত হল, মোট লভ্যাংশের অর্ধেক তাকে দিতে হবে। জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করলে সহীহ হবে কি না? ব্যবসার যাবতীয় কাজ কারবার দেখাশুনা আমার দায়িত্বে।

    উত্তর:

    আপনার বন্ধুর মূলধন যেহেতু আপনার চেয়ে কম তাই সে যদি ব্যবসায় কোন শ্রম না দেয় তবে তার জন্য অর্ধেক লাভের চুক্তি করা বৈধ হবে না। সে তার মূলধন অনুপাতে সর্বোচ্চ শর্তকরা ৪৪.৪৪% লভ্যাংশ নিতে পারবে। এর বেশি লাভ নিতে পারবে না। তবে হ্যাসেও যদি ব্যবসায় কিছু শ্রম দেয় তাহলে পুঁজি কম থাকলেও অর্ধার্ধি লাভের শর্ত করা সহীহ।

    উল্লেখ্য যেঅংশিদারী ও যৌথ মূলধনী কারবারে শরঈ অনেক বিষয় থাকেযেগুলো ব্যবসা শুরুর আগে কোনো বিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নেয়া উচিত।

    -বাদায়েউস সনায়ে ৫/৮৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৫৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৪
  • ৪০৯৪ . মো. রশীদ আহমদ . কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা
    প্রশ্ন:

    আমাদের গ্রামে শাক সবজি ইত্যাদি চাষাবাদকারী কৃষকদেরকে ঢাকার বিভিন্ন আড়তদাররা উৎপাদনের প্রয়োজনে ঋণ দিয়ে থাকে। কৃষিপণ্য উৎপন্ন হওয়ার পর কৃষকরা সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়।

    এতে আড়তদাররা কোনো প্রকার সুদ নেয় না। তবে আড়তদাররা কৃষকদেরকে বলে দেয় যে, শাক সবজি উৎপন্ন হওয়ার পর আমাদের আড়তেই আনতে হবে। অন্য কোথাও নিতে পারবেন না। কৃষকরাও তা মেনে নেয়। জানার বিষয় হল এ ধরনের শর্ত করে ঋণ দেওয়া বা নেওয়া জায়েয হবে কি না?

     

    উত্তর:

    ঋণ প্রদান করে ঋণগ্রহিতা থেকে কোনো প্রকার উপকৃত হওয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঋণদাতার আড়তে শাক সবজি আনার শর্ত দ্বারা ঋণ দাতা লাভবান হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে আড়তদার কৃষককে মূল্যও কম দিয়ে থাকে। তাই এ ধরনের শর্ত দিয়ে ঋণের আদান-প্রদান করা নাজায়েয। তবে যদি ঋণদাতার পক্ষ থেকে তার আড়তেই দেওয়ার শর্ত করা না হয়বরং অন্যত্র বিক্রির ব্যাপারে তার পক্ষ থেকে ছাড় থাকেএরপর ঋণগ্রহিতা নিজ থেকেই কৃষিপণ্য ঋণদাতার আড়তে নিয়ে যায় তাহলে এতে অসুবিধা নেই।

    -ংমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২১০৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০২
  • ৪০৯৫ . শামসুদ্দিন . টঙ্গি, গাজিপুর
    প্রশ্ন:

    জনাব, নি¤œলিখিত মাসআলার শরয়ী ফায়সালা দানকরে বাধিত করিবেন।

    ক. আমার ব্যবসা থেকে খরচাদি বাদে উদ্বৃত্ত টাকা জমা করা হয় পরবর্তীতে বড় কোন একটি বিনিয়োগের জন্য। অর্থাৎ ব্যবসায়িক কাজে অথবা কোনো বাড়ি করার জন্য। বিনিয়োগের সুযোগ আসার আগ পর্যন্ত উক্ত টাকা আমি আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে এফডিআর করে রাখি। যা ২/১ বছর পর ভাঙ্গিয়ে মূল টাকা বিনিয়োগ করি এবং ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় মুনাফার টাকা আলাদা একটি একাউন্টে রেখে দেই, যা গরীবদের মধ্যে প্রয়োজনমত বিতরণ করা হয়। এবং অতীতে এ ধরনের টাকা দিয়ে জনকল্যাণার্থে রাস্তা তৈরিতে এবং পাবলিক টয়লেট তৈরিতে খরচ করা হয়েছে।

    খ. এ ছাড়া সরকারী আধা-সরকারী সংস্থার  সাথে ব্যবসা করতে হলে এবং কোনো লাইসেন্স নিতে হলে সেখানেও কিছু টাকা জামানত অত্যাবশ্যক হয়। উক্ত জামানতের নগদ অর্থ না দিয়ে এফডিআর আকারে জমা করা হয় এবং মেয়াদান্তে তাতেও কিছু টাকা মুনাফা আসে যা (ক) এর পদ্ধতিতে খরচ করি।

    আমার এই পদ্ধতি ঠিক আছে কি না? যদি সহীহ না হয় তাহলে অন্য কোনো সহীহ পথ আছে কি না?

    উল্লেখ থাকে যে, উক্ত (ক) এবং (খ) -এ বর্ণিত এফ ডি আর ভাঙ্গানোর আগ পর্যন্ত উক্ত টাকার নিয়মিত যাকাত দিয়ে থাকি।

    প্রকাশ থাকে যে, আমি নিজে ব্যবসায়িক অথবা কোন বিনিয়োগের কাজে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করি না।

    উত্তর:

    (কখ) ব্যাংকে জমাকৃত টাকার মালিক আপনি নিজে। সুতরাং পুনরায় বিনিয়োগ করা বা নিজ প্রয়োজনে খরচ করা ঠিক আছে। আর ব্যাংক থেকে প্রদত্ত টাকা গরিব-মিসকিনের হক। তাদেরকে দিয়ে দেওয়াই কর্তব্য। সুতরাং এ টাকা গরিব-মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে কিংবা তাদের পেছনে ব্যয় করা বা এমন খাতেও দেওয়া যেতে পারে যার ভোক্তা বা ব্যবহারকারী শুধুই গরিবরা।

    তবে কিছু ওলামায়ে কেরাম যেহেতু এ ধরনের টাকা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে খরচ করারও অনুমতি দিয়ে থাকেনএ হিসেবে অতীতে এ টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা বা বাথরুম বানিয়ে দেয়ার দ্বারাও আপনি দায়িত্বমুক্ত হয়ে গেছেন।

     

    অবশ্য এগুলোর ব্যবহারকারী যেহেতু শুধু গরিবরা নয় তাই সামনে থেকে এ টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় না করে গরিবদেরকেই মালিক বানিয়ে দিতে হবে। এফডিআর করলেও জমার উপর বছরান্তে যাকাত দিতে হয়। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/১৭০ইমদাদুল আহকাম ৩/৪৭কেফায়াতুল মুফতী ১০/২৪৮

  • ৪০৯৬ . আব্দুল্লাহ . নাটোর
    প্রশ্ন:

    বিড়াল পালা কি জায়েয? অনেকের ঘরেই দেখা যায় বিড়াল থাকে। কেউ তা ইচ্ছা করেই পালে। এটা কি বৈধ? আর কুকুর পালার কী হুকুম? কোনো প্রয়োজনে বা প্রয়োজন ছাড়া এমনিতেই কুকুর পালা কি জায়েয? বিস্তারিত জানতে চাই।

    উত্তর:

    বিড়াল পালা জায়েয। হাদীস শরীফে আছেআবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

    عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ سَجَنَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ، فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ، لاَ هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَلاَ سَقَتْهَا، إِذْ حَبَسَتْهَا، وَلاَ هِيَ تَرَكَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ.

    জনৈক মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটিকে বন্দি করে রাখেএ অবস্থায় সেটি মারা যায়। সে এটিকে বন্দি করে রেখে পানাহার করায়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নিযাতে সে (নিজে) জমিনের পোকা-মাকড় খেতে পারে। -সহীহ বুখারীহাদীস ৩৪৮২

    এ হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেনকুরতুবি রাহ. বলেছেনএ হাদীস থেকে বিড়াল পালা ও বিড়ালকে বেধে রাখা জায়েয বলে প্রমাণিত হয়যদি তাকে খানা-পিনা দেওয়ার ব্যাপারে ত্রুটি না করা হয়। -ফাতহুল বারি ৬/৪১২

    এ ছাড়া আরো কিছু হাদীস রয়েছে যা থেকে বিড়াল পালা জায়েয প্রমাণিত হয়।

    আর শরীয়তসম্মত ওজর ছাড়া কুকুর পালা মারাত্মক গুনাহের কাজ। হাদীস শরীফে এসেছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

    لاَ تَدْخُلُ المَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ.

    যে ঘরে কুকুর বা (প্রাণির) ছবি রয়েছে তাতে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। -সহীহ বুখারী,হাদীস ৫৯৪৯

    আরেক হাদীসে আছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু বা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পালে তার প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়। -সহীহ মুসলিমহাদীস ১৫৭৫

    আর এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে কোনো কোনো ফকীহ বলেছেনঘর-বাড়ি পাহারার প্রয়োজনেও কুকুর রাখা জায়েয।

    এ সব প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালা জায়েয নয়। বিশেষত বর্তমানে বিজাতীয় ফ্যাশনের অনুকরণে কুকুর পালার যে রেওয়াজ হয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম।

    -আলইসতিযকার ১/২০৩; ফয়যুল কাদীর ৩/৫২২; উমদাতুল কারী ১৫/১৯৮; শরহে মুসলিম, নববী ৩/১৮৬; মিরকাতুল মাফাতীহ ২/৪৫৬; ফাতহুল কাদীর ৫/৩৪৬; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৭৩; রদ্দুল মুহতার ৫/২২৭
  • ৪০৯৭ . হাফসা . গোপালগঞ্জ
    প্রশ্ন:

    মহিলাদের জন্য নকল চুল ব্যবহারের হুকুম কী? শুনেছি তাদের জন্য নাকি কোনো ধরনের নকল চুল ব্যবহার করা জায়েয নয়। এ কথা কি ঠিক?

    উত্তর:

    মহিলাদের জন্য কোনো মানুষের চুল পরচুলা হিসাবে ব্যবহার করা নাজায়েয। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠিন ধমকি এসেছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

    لَعَنَ اللَّهُ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ.

    আল্লাহ তাআলা লানত করেন ঐ নারীর প্রতি যে (অন্য নারীকে) চুল লাগিয়ে দেয় এবং যে নারী নিজে চুল লাগায়। (সহীহ বুখারীহাদীস ৫৯৩৩)

    অবশ্য পরচুলা যদি কোনো মানুষের চুল না হয়ে শুকর ব্যতীত কোনো পশুর হয় অথবা কৃত্রিম চুল হয় তাহলে তা ব্যবহার করা অবৈধ নয়।

    আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,

    لاَ بَأْسَ بِالْوِصَالِ إِذَا كَانَ صُوفًا.

    পশম দিয়ে তৈরি পরচুলা ব্যবহার করতে সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২৫৭৪৩)

    সুনানে আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে সাঈদ ইবনে যুবায়ের রা. থেকে বর্ণিততিনি বলেন- لَا بَأْسَ بِالْقَرَامِلِ

    করমাল ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। (হাদীস ৪১৬৮)

    করমাল আরবী শব্দ। অর্থ হল রেশম বা পশমের সুতা দিয়ে তৈরি কেশগুচ্ছ যা মহিলারা চুলের সাথে যুক্ত করে ব্যবহার করে।

    সুতরাং কেনো ধরনের নকল চুল ব্যবহার করা জায়েয নেই- এ কথা ব্যাপকভাবে বলা ঠিক নয়।

    প্রকাশ থাকে যেকৃত্রিম চুল লাগালে তখনই জায়েয হবে যখন তা শুধুই সৌন্দর্যচর্চা পর্যন্ত সীমিত থাকবে। কিন্তু এ ধরনের চুল ব্যবহার করার দ্বারা যদি প্রতারণা উদ্দেশ্য থাকে তাহলে তা নাজায়েয হবে। 

    -রাদ্দুল মুহতার ৬/৩৭২; বাযলুল মাজহুদ ১৭/৫৮

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে মাহে রমযান