মে-জুন ২০১৭ . মে-জুন ২০১৭

চলতি সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০৫

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৪০৮৮ . ইবরাহীম হাবীব . মহাখালি, ঢাক
    প্রশ্ন:

    আমার ৩ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন আছে। সেটির ২য় তলায় আমি আমার পরিবারসহ থাকি। অন্য ২ তলা ভাড়া দেয়া আছে। সেগুলোর ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৩২,০০০/- টাকা পাই। এ আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। মাস শেষে কখনো কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে। কখনো থাকে না। এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব ফরয হয়েছে?

    উত্তর:

    প্রশ্নের বর্ণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যেএ বাড়ি থেকে অর্জিত ভাড়ার টাকা আপনার সংসার চালানোর জন্য অপরিহার্য। বিষয়টি যদি এমনই হয়ে থাকে তাহলে ঐ বাড়ির কারণে আপনার উপর হজ্ব ফরয হবে না। 

    -রদ্দুল মুহতার ২/৪৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩১৩; আন্নাহরুল ফাইক ২/৫৬
  • ৪০৮৯ . আতাউল্লাহ . মিতরা, মানিকগঞ্জ
    প্রশ্ন:

    আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি দাড়ি রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে গিয়ে এভাবে বলে, আমি যদি আর দাড়ি কাটি তাহলে আমি মুসলমান না। পরে সে দাড়ি কেটেছে। এখন তার বিধান কী? তার ঈমান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কী হবে? কেউ কেউ বলেন, তার এ কথা কোনো হলফই হয়নি। কারণ দাড়ি যে একেবারে কাটা যায় না এমন তো নয়। এক মুষ্ঠির বেশি হলে তো কাটা যায়। উল্লেখ্য, তার উদ্দেশ্য ছিল দাড়ি যত বড়ই হোক মোটেই কাটবে না। এক মুষ্ঠির বেশি হলে কাটা যায়- এটা তার জানা ছিল না।

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করার দ্বারা ঐ ব্যক্তির ঈমান নষ্ট হয়নি এবং বিবাহও ভাঙ্গেনি। তবে এ কথা বলার দ্বারা দাড়ি না কাটার হলফ হয়েছে। অতএব হলফ ভাঙ্গার কারণে তার উপর কসমের কাফ্ফারা আদায় করা ওয়াজিব। যারা বলেছেএক মুষ্ঠির বেশি হলে দাড়ি কাটা যায় বিধায় হলফ হবে না তাদের কথা ঠিক নয়। কেননা বৈধ কাজ না করার উপরও হলফ হয়।

     

    আর কোনো অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও আমি মুসলমান নই এমন কথা বলা মারাত্মক অন্যায় ও গুনাহ। অতএব ঐ কথা বলার কারণে তাকে তাওবা করতে হবে।

    -বাদায়েউস সনায়ে ৩/১৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৩, ৭১৭; এলাউস সুনান ১১/৩৫৮
  • ৪০৯০ . মুনীরুল ইসলাম . রংপুর
    প্রশ্ন:

    আমি আমার এক বন্ধুর কাছে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল বিক্রি করি। নগদ পাঁচ শ টাকা সে আদায় করে। বাকিটা দুমাসের মধ্যে আদায় করবে বলে। ঘটনাচক্রে যেদিন মোবাইলটি বিক্রি হয় সেদিনই তার হাত থেকে পড়ে মোবাইলটির স্ক্রীন ফেটে যায়। পরদিন এসে সে বলছে, আমি এ মোবাইল নেব না। তবে স্ক্রীন ফাটার কারণে আমার পাচ শ টাকা আমাকে না দিলেও চলবে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি। দুদিন পর আমি বলেছি, মোবাইল ফেরত দিতে হলে আরো পাচ শ টাকা দিতে হবে। হুযুরের কাছে জানতে চাই, এক্ষেত্রে শরীয়ত কী বলে?

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু মোবাইলের বেচাকেনা সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং ক্রেতা তা হস্তগত করেছে এবং তার হাতেই মোবাইলটি ভেঙেছে তাই মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার অধিকার তার নেই। তবে আপনি সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিলে সে মোবাইলটি ফেরত দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে আপনি মোবাইল স্ক্রীনের যথাযথ মূল্য তার কাছ থেকে নিতে পারবেন।

    -বাদায়েউস সনায়ে ৪/৫৪৬; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/১১৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১২৬
  • ৪০৯১ . মো. রিয়াজ . সদর, নোয়াখালী
    প্রশ্ন:

    আমরা বিশজন মিলে একটা সংগঠন করেছি। উদ্দেশ্য হল, সবাই সমানভাবে টাকা জমা করে শিরকতের পদ্ধতিতে ব্যবসা করব এবং লাভ সমানভাবে বণ্টন হবে। ব্যবসা করার দায়িত্ব আমি বহন করেছি। এর জন্য আমি কোনো বেতন নেই না। গত বছর এক লোককে তিন মাস পর ১০ মন ধান দিবে এ চুক্তিতে চার হাজার টাকা অগ্রিম দিই। পরে ঐ লোক থেকে টাকা বা ধান কোনোটাই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    এখন সংগঠনের বাকি সদস্যরা আমার কাছে এই টাকা দাবি করছে। জানার বিষয় হল, এই টাকার দায় কি শুধু আমার উপর আসবে?

     

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সংগঠনের বিনিয়োগ বিষয়ক নীতি ও শর্ত মেনেই যদি যথাসাধ্য যাচাইয়ের পর ঐ ব্যক্তির সাথে লেনদেন করে থাকেন তবে এর ক্ষতি সংগঠনের সকল সদস্যকেই মূলধন অনুপাতে বহন করতে হবে। এক্ষেত্রে পুরো ক্ষতি আপনার উপর চাপানো জায়েয হবে না।

    -আলবাহরুর রায়েক ৫/১৮০; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা : ১৩৫০
  • ৪০৯২ . আশরাফ হুসাইন . মোমেনশাহী
    প্রশ্ন:

    আমি একজন মুদি ব্যবসায়ী। গত বছর আমি অন্য এক ব্যবসায়ীকে দশ মন ধান করয দিয়েছিলাম। এ বছর তা আদায় করার কথা। এখন আমি চাচ্ছি, তার কাছ থেকে ধান না নিয়ে টাকা নিতে। এটা কি জায়েয হবে? জায়েয হলে কখনকার মূল্য হিসেবে সে টাকা দিবে? গত বছরের, না বর্তমান বাজারের?

     

    উত্তর:

    করয লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ম হলযে জিনিস করয দেওয়া হয় বিনিময়ে সেটাই নিবে। তাই এ বছর সমপরিমাণ ঐ ধানই আপনার প্রাপ্য। তবে হাঁকরয দাতা-গ্রহিতা উভয়ের সম্মতিতে পাওনা বস্তুর বদলে তার মূল্যও লেনদেন করা যায়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি চাইলে ধানের পরিবর্তে মূল্যও নিতে পারবেন। আর এক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের সময়ের বাজার-মূল্য ধর্তব্য হবে। অর্থাৎ তখন বাজারে ঐ মানের দশ মন ধান যত টাকায় পাওয়া যেত তত টাকা নিতে পারবেন। এর বেশি নেওয়া যাবে না।

    -আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৯৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২৩

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে মাহে রমযান