মে-জুন ২০১৭ . মে-জুন ২০১৭

চলতি সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০৫

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৪০৭৮ . হাবিবুর রহমান . পঞ্চগড়
    প্রশ্ন:

    রোযা অবস্থায় আমার মুখে মশা বা অন্য কোনো পোকা প্রবেশ করে গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আমি অনেক কাশাকাশি করেও তা বের করতে পারিনি। বর্তমানে আমি খুবই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। উক্ত ঘটনার কারণে আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

    উত্তর:

    রোযা অবস্থায় মশা-মাছি অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতরে প্রবেশ করলে রোযা ভাঙে না। তাই আপনার ঐ দিনের রোযা সহীহ হয়েছে। মশা ভেতরে চলে যাওয়ার কারণে রোযার ক্ষতি হয়নি।

    -কিতাবুল আছল ২/১৬৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫
  • ৪০৭৯ . হাসান মাহমুদ . যাত্রাবাড়ি
    প্রশ্ন:

    কুলি করার পর সাধারণত মুখে যে পানি লেগে থাকে তা রোযা অবস্থায় থুথুর সাথে গিলে ফেললে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি?

     

    উত্তর:

    নাএতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না।

    -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬১; মারাকিল ফালাহ পৃ.৬৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৬২
  • ৪০৮০ . মুহাম্মাদ আবুল কালাম . টাঙ্গাইল
    প্রশ্ন:

    আমি প্রতি রমযানেই রোযাগুলো নিয়মিত রাখি। কিন্তু অধিকাংশ রোযাতেই মুখে রোযার নিয়ত উচ্চারণ করি না; বরং রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরীর জন্য উঠে সেহরী খেয়ে নিই এবং অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী ঠিকমতো করতে থাকি। এমন করার দ্বারা আমার রোযাগুলো সহীহ হয়েছে কি না? নাকি আবার কাযা করতে হবে?

    উত্তর:

    রোযা রাখার উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে ওঠা ও সাহরী খাওয়াটাই রোযার নিয়তের শামিল। নিয়ত মনের ইচ্ছার নামএক্ষেত্রে মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। তাই আপনার রোযাগুলো সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

    -আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৯; আলজাওহারাতুন নায়্যিরাহ ১/১৭৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫
  • ৪০৮১ . আবদুস সামাদ . মনিরামপুর, যশোর
    প্রশ্ন:

    এক ব্যক্তি চোখের অসুস্থতার কারণে ড্রপ ব্যবহার করে এবং ঔষধের তিক্ততা গলায় অনুভব করে। প্রশ্ন হল, রোযা অবস্থায় এ ধরনের ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে কি? দয়া করে জানাবেন।

     

    উত্তর:

    নারোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করার কারণে গলায় ঔষধের তিক্ততা অনুভূত হলেও রোযা নষ্ট হয় না। সুতরাং রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করা যাবে। কোনো সমস্যা নেই।

    -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩
  • ৪০৮২ . মাহমুদুল্লাহ . খিলগাওঁ, ঢাকা
    প্রশ্ন:

    রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ অবস্থায় কেউ শরীয়তসম্মত কোনো প্রয়োজনে যদি বাইরে যায় তাহলে সে কাউকে সালাম ও এর জবাব দিতে পারবে কি না? আমাদের এখানে কেউ কেউ বলেন যে, তার জন্য সালাম দেওয়াও নাকি সহীহ নয়। আবার কেউ বলেন, সালাম দেওয়া যাবে। তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

     

    উত্তর:

    ইতিকাফকারী কোনো প্রয়োজনে মসজিদের বাইরে গেলে সালাম বা সালামের জবাবের জন্য না থেমে রাস্তায় চলতে চলতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজটি সারতে সারতে সালাম ও সালামের জবাব দিতে পারবে। এতে তার ইতিকাফের কোনো ক্ষতি হবে না। হাদীস শরীফে আছেআম্মাজান আয়েশা রা. বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় (প্রয়োজনে বাইরে গেলে) যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে অতিক্রম করতেন তখন হাঁটা অবস্থাতেই ঐ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়ে নিতেন। (সুনানে আবু দাউদহাদীস  ২৪৭২)

    -মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/৫২৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫; ইমদাদুল আহকাম ২/১৪৯

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে মাহে রমযান