রজব ১৪৩৮ . এপ্রিল ২০১৭

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০৪

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৪০৩৭ . মুহাম্মাদুল্লাহ ফয়সাল . সদর, লালমনিরহাট
    প্রশ্ন:

    আমাদের এলাকায় মসজিদে ঈদের জামাত হয়। গত ঈদে নামাযের আগে প্রচণ্ড বৃষ্টি আরম্ভ হয়। তখন আমরা সবাই মসজিদে অবস্থান নেই। এছাড়া অবস্থানের অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। এদিকে ঈদের নামাযের সময় ঘনিয়ে এলে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাতার করি। কিন্তু ভিড়ের কারণে পেছনের কাতারের কয়েকজন মুসল্লী অন্যের পিঠের উপর সিজদা করে নামায আদায় করে।

    জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে নামায আদায় করা কি সহীহ হয়েছে? নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে।

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নামায সহীহ হয়েছে ভীড়ের কারণে সিজদার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে পিঠের উপরও সিজদা করে নামায আদায় করা জায়েয আছে। এটি সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল দ্বারাও প্রমাণিত।

    হযরত উমর রা. বলেন,

    مَنْ زَحَمَهُ النَّاسُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَتَّى لَا يَسْتَطِيعَ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى الْأَرْضِ فَلْيَسْجُدْ عَلَى ظَهْرِ رَجُلٍ .

    জুমার দিনে ভীড়ের কারণে যে ব্যক্তি জমিনের উপর সিজদা করতে সক্ষম নয়সে যেন অপর ব্যক্তির পিঠের উপর সিজদা করে। (আলমুহাল্লা ৩/২৯৮)

    হাসান বসরী রাহ. বলেন,

    إذَا اشْتَدَّ الزِّحَامُ فَإِنْ شِئْت فَاسْجُدْ عَلَى ظَهْرِ أَخِيك.

     

    যখন ভীড় অধিক হয় তখন তুমি চাইলে তোমার ভাইয়ের পিঠের উপর সিজদা করতে পার। (আলমুহাল্লা ২/২৯৮)

    -কিতাবুল আছল ১/১৭৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১২১; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০
  • ৪০৩৮ . ওমর ফারুক . উত্তরা, ঢাকা
    প্রশ্ন:

    আমার একজন খালা গত তিন বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপর থেকে তিনি আর পূর্ণ জ্ঞান ফিরে পাননি। অনেক কিছুই মনে রাখতে পারতেন না। মাঝেমধ্যে আপন-জনদেরকেও চিনতে তার বেগ পেতে হত। নামাযের সময় হলে কেউ মনে করিয়ে দিলে অজু করে এসে নামাযে দাঁড়াতেন। তবে কয় রাকাত পড়ছেন, সিজদা কয়টি করছেন মনে রাখতে পারতেন না। অর্থাৎ শুদ্ধভাবে কখনও নামায পড়তে পারতেন না। এ অবস্থায় তিন বছর যাওয়ার পর গত কিছুদিন আগে তিনি এন্তেকাল করেন। জানতে চাচ্ছি, তার উক্ত দীর্ঘ সময়ের নামাযগুলোর হুকুম কী? এ নামাযগুলোর ফিদয়া দিতে হবে কি?

     

    উত্তর:

    প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার খালার ব্রেন স্ট্রোকের পর তিনি যেহেতু পূর্ণ জ্ঞান ফিরে পাননি বরং একেবারে অস্বাভাবিক ছিলেন তাই তার ঐ সময়ের নামাযের জন্য আপনাদের কিছুই দিতে হবে না। কারণএমন অবস্থায় নামায ফরয থাকে না। 

    -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪২৩; রদ্দুল মুহতার ২/১০০
  • ৪০৩৯ . হুযাইফা . কুটাপাড়া, বি-বাড়িয়া
    প্রশ্ন:

    আমি আমার বড় ভাই আর আমার আব্বু আমরা তিনজন প্রতিবছর রমযানে বাসায় জামাতে তারাবীহ পড়ি। আগামী রমযান থেকে আমার বোন আর আম্মুও আমাদের সাথে শরীক হতে চাচ্ছেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আম্মু আর আপু আমাদের সাথে শরীক হলে আমরা কীভাবে কাতার করে দাঁড়াব? আর মহিলাদের বাসাতে জামাতে নামায পড়া বা বাইরের জামাতে অংশগ্রহণ করা কেমন? দলীল প্রমাণসহ জানতে চাই।

    উত্তর:

    ইমামের সাথে যদি একজন পুরুষ ও মহিলা থাকেতাহলে পুরুষ ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে। আর মহিলা তাদের পেছনের কাতারে দাঁড়াবে। আর যদি ইমামের সাথে দুইজন পুরুষ ও মহিলা থাকেতাহলে দুইজন পুরুষ ইমামের পেছনের কাতারে দাঁড়াবেআর মহিলা তাদের পেছনের কাতারে দাঁড়াবে। আনাস রা. থেকে বর্ণিত-

    عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ لَهُ، فَأَكَلَ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: قُومُوا فَلِأُصَلِّ لَكُمْ قَالَ أَنَسٌ: فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا، قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ، فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَصَفَفْتُ وَاليَتِيم وَرَاءَهُ، وَالعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا، فَصَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفَ .

    উক্ত হাদীসে এসেছে যেআনাস রা.একটি ছেলে ও একজন বৃদ্ধ মহিলাকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতে নামায পড়েছেন। সেখানে আনাস রা. ও ছেলেটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে দাঁড়িয়েছেন। আর বৃদ্ধ মহিলা দাঁড়িয়েছেন তাদের পেছনে।

    প্রকাশ থাকে যেমেয়েদের জন্য তারাবীর নামাযও একাকী পড়াই উত্তম। আর গায়রে মাহরাম (মাহরাম নয় এমন) কোনো পুরুষের পেছনে পর্দার ভেতরে থেকেও মহিলাদের জন্য ইকতিদা করা মাকরূহ। আর যদি জামাতে শরীক হওয়ার  জন্য ঘরের বাইরে অন্য কোথাও যেতে হয় তবে তা আরো অপছন্দনীয়। কেননা বহু হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে একাকি গৃহাভ্যন্তরে নামায আদায়কে উত্তম বলেছেন এবং এভাবে নামায আদায়ে উৎসাহিত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিততিনি বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

    صلاةُ المرأةِ في بيتها أفضلُ من صلاتها في حُجْرَتِها، وصلاتُها في مخدَعِها أفضلُ من صلاتها في بيتها.

    মহিলাদের জন্য ঘরের ভেতরে নামায পড়া উত্তম বাইরের কামরায় নামায পড়া থেকে  আর গৃহাভ্যন্তরের প্রকোষ্ঠে নামাযে পড়া উত্তম ঘরে নামায পড়া থেকে। (সুনানে আবুদাউদহাদীস ৫৭০)

    আরেক হাদীসে আছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

    خَيْرُ صَلَاةِ النِّسَاءِ فِي قَعْرِ بُيُوتِهِنَّ

    মহিলাদের জন্য উত্তম নামায হল যা গৃহাভ্যন্তরে আদায় করা হয়। (মুসনাদে আহমাদহাদীস ২৬৫৭০)

     

    তাই মহিলাগণ জামাতে নামায পড়লে কিংবা ঘরের বাইরে গিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করলে সাওয়াব কম হবে এবং তা মাকরুহ হবে।

    -আলমুহীতুল বুরহানী ২/২০২; বাদায়েউস সনায়ে ১/৩৯২; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫২
  • ৪০৪০ . তাহের . টঙ্গী, গাজীপুর
    প্রশ্ন:

    আমি  আজ আসর নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে দুবার তাশাহহুদ পড়ে ফেলি। পরে সাহু সেজদা না দিয়েই নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাই, আমার নামায কি আদায় হয়ে গেছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে? আরও জানতে চাই, এভাবে নামাযের শেষ বৈঠকে অথবা প্রথম বৈঠকে ভুলে একাধিকবার তাশাহহুদ পড়লে কী করণীয়?

     

    উত্তর:

    নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে একাধিকবার তাশাহহুদ পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয় না। তাই আপনি সাহু সেজদা না করে ঠিকই করেছেন। আর ফরয ওয়াজিব এবং সুন্নতে মুআক্কাদা নামাযের প্রথম বৈঠকে ভুলে একাধিকবার তাশাহহুদ পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়। 

    -আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী পৃ.২৫১, রদ্দুল মুহতার ১/৫১০
  • ৪০৪১ . তাহের . টঙ্গী, গাজীপুর
    প্রশ্ন:

    হুযুর, আজ ফজর নামাযে প্রথম রাকাতে আমি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। ইমাম সাহেব কখন রুকু ও সেজদা করলেন আমি তা টের পাইনি। হঠাৎ চোখ খুলে দেখি, তিনি সেজদা থেকে উঠে দ্বিতীয় রাকাত শুরু করছেন। তখন আমি তার সাথে দ্বিতীয় রাকাতে শরীক হয়ে নামায শেষে ছুটে যাওয়া রাকাতটি আদায় করেছি। আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে? নাকি তা পুনরায় পড়তে হবে?

     

    উত্তর:

    আপনার ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে। তা পুনরায় পড়তে হবে না। তবে তা নিয়মসম্মত হয়নি। কারণ নামাযের শুরু থেকে উপস্থিত থাকার পর ঘুমের কারণে কিছু অংশ ছুটে গেলে নিয়ম হলযে অংশ ছুটে গেছেতা আগে আদায় করে নেয়া। তারপর ইমামের অনুসরণ করা। 

    -আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭; বাদায়েউস সনায়ে ১/৫৬৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৩

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে মাহে রমযান