রবিউস সানি ১৪৩৮ . জানুয়ারি ২০১৭

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০১

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৩৯৬১ . মেরাজ তাহলীল . ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত
    প্রশ্ন:

    আমাদের পাশের মসজিদে আইপিএস লাগানোর জন্য আমি আমার বিভিন্ন বন্ধুদের থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা সংগ্রহ করি। আইপিএস লাগানোর পর আমার কাছে আরো তিন হাজার টাকা রয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, ঐ তিন হাজার টাকা আমি অন্য মসজিদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতে পারব কি না?

     

    উত্তর:

    আপনার বন্ধুরা যেহেতু আপনাদের মসজিদে আইপিএস কিনে দেওয়ার জন্য টাকাগুলো দিয়েছে তাই আইপিএস কেনার পর অবশিষ্ট টাকাটাও ঐ মসজিদেরই প্রাপ্য। তবে এক্ষেত্রে আপনার বন্ধুদেরকে বিষয়টি অবহিত করা দরকার। যদি তারা অবশিষ্ট টাকা ফেরত চায় অথবা অন্য কোথাও দিতে বলে তাহলে সেক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। 

    -আলইসআফ ১৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫০
  • ৩৯৬২ . মুহাম্মাদ আলী . নরসিংদী
    প্রশ্ন:

    আমরা তিনজন মিলে ১ লক্ষ করে মোট ৩ লক্ষ টাকা একজনকে ব্যবসা করার জন্য দেই। সে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রসিদ্ধ মিষ্টি, দই, রসমালাই ইত্যাদি এনে ঢাকায় বিক্রি করে। সে আমাদেরকে অর্জিত লাভের ২৩% করে দেওয়ার আর লস হলে একই হারে কেটে নেওয়ার চুক্তি করে। এক বছর পর সে নিজেও তাতে ১০,০০০/- টাকা বিনিয়োগ করে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উপরোক্ত কারবারটি সহীহ আছে কি?

     

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত লাভ বণ্টনের চুক্তিটি সহীহ হয়েছে। কিন্তু লোকসানের ক্ষেত্রে একই হারে কেটে নেওয়ার চুক্তিটি সহীহ হয়নি। কেননা আপনারা তার সাথে যে চুক্তিটি করেছেন ফিকহের পরিভাষায় একে মুদারাবা বলে। মুদরাবার ক্ষেত্রে নিয়ম হল ব্যবসায় ক্ষতি হলে বিনিয়োগকারীরা নিজ নিজ বিনিয়োগের হার অনুপাতে ক্ষতি বহন করবে। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনাকারীর ইচ্ছাকৃত ত্রুটি ছাড়া তার ক্ষতি হলে বা লোকসান হলে সে মূলধনের জরিমানা দিবে না। অবশ্য ব্যবসা পরিচালনাকারী নিজ থেকেও কিছু বিনিয়োগ করলে লোকসানের ক্ষেত্রে মূলধনের অনুপাতে সেও ক্ষতি বহন করবে।

    -বাদায়েউস সানায়ে ৫/১১৯; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দাহ : ১৩৬৯; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৪৮
  • ৩৯৬৩ . মিসবাহ উদ্দীন . লোহাগড়া, চট্টগ্রাম
    প্রশ্ন:

    আমার বাড়ি চট্টগ্রাম। ঢাকার একটি মাকতাবা থেকে আমি ফোনে ফাতহুল বারী কিতাবটি ক্রয় করেছিলাম। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তারা কিতাবটি আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়। পরিবহণ খরচ আমি বহন করেছি। কিতাবটি দেখার পর তার ছাপা ও আনুষঙ্গিক আরো কিছু জিনিস আমার পছন্দ হয়নি। তাই আমি তা ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছি। কিন্তু তারা তাতে রাজি হচ্ছে না। জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে কিতাবটি ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকার আমার আছে কি? আর ফিরিয়ে দিলে তার ফিরতি পরিবহণ খরচ কি আমাকেই বহন করতে হবে?

    উত্তর:

    আপনি যেহেতু কিতাবটি না দেখেই ক্রয় করেছেন তাই দেখার পর চাইলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকার আপনার রয়েছে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

    من اشْترى شَيْئا وَلم يره فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذا رَآهُ .

    কেউ যদি না দেখে কোনো কিছু ক্রয় করে তাহলে দেখার পর তা (রাখা না রাখার) অধিকার তার রয়েছে। -কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৭২৪

     

    তাই মাকতাবা কর্তৃপক্ষের জন্য কিতাবটি ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানানোর সুযোগ নেই। তাদের দায়িত্ব হল তা ফেরত নিয়ে আপনার টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া। তবে কিতাবটি আনা নেওয়ার উভয় খরচই আপনাকে বহন করতে হবে। 

    -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২০৩৩৮-২০৩৪১; শরহু মাআনিল আসার ২/১৮৬; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৯৪, জামেউল ফুসুলাইন ১/৩৩৬
  • ৩৯৬৪ . হাবিবুর রহমান . ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত
    প্রশ্ন:

    আমি কুমিল্লা ইপিজেডে একটি কোরিয়ান ফ্যাক্টরিতে চাকরি করি। আমার দায়িত্ব হল ফ্যাক্টরির জন্য কাঁচামাল ক্রয় করা। কাঁচামালগুলে যেসব কোম্পানি থেকে ক্রয় করি তারা অনেক সময় আমাকে প্রস্তাব করে যে, আমি তাদের থেকে পণ্য ক্রয় করলে তারা আমাকে শতকরা হারে কিছু কমিশন দিবে। যেমন আমার ফ্যাক্টরির ক্যাবল প্রয়োজন। ক্যাবল বিক্রয়কারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন, বিআরবি, বিবিএস, প্যারাডাইস ক্যাবল ইত্যাদি। তো ধরুন, বিআরবি কোম্পানি আমাকে প্রস্তাব করল যে, আমি যদি তাদের থেকে ক্রয় করি তাহলে তারা আমাকে ০.৫% কমিশন দিবে। এই কমিশনটা নেওয়া আমার জন্য জায়েয হবে কি না?

    উত্তর:

    আপনি যেহেতু ঐ ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে মালামাল ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তাই বিক্রয়কারী কোম্পানির কাছ থেকে কোনো কমিশন নেওয়া আপনার জন্য জায়েয হবে না। নিলে সেটা সম্পূর্ণ ঘুষ ও হারাম হবে। বিক্রেতা কোম্পানি যদি কখনো কোনো গিফট বা কমিশন দেয় তা আপনার ফ্যাক্টরি  কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এই কমিশন বা গিফট পাওয়ার হকদার ক্রেতা কোম্পানি। ক্রেতা প্রতিনিধি নয়।

    উল্লেখ্যআপনার কর্তব্য হল আপনার প্রতিষ্ঠান কোনো ব্র্যান্ড নির্ধারণ করে দিলে তাদের থেকেই মালামাল নেওয়া। আর যদি নির্ধারণ না করে দেয় তবে যাদের থেকে কিনলে আপনার ফ্যাক্টরি সার্বিকভাবে লাভবান হবে তাদের থেকেই ক্রয় করা। এর ব্যতিক্রম হলে অন্যায় ও খেয়ানত হবে।

    -জামেউল ফুসুলাইন ২/২১১; শরহুল মাজাল্লাহ ২/৬৭; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৬০
  • ৩৯৬৫ . জয়নাল আবেদীন . সিলেট
    প্রশ্ন:

    আমি ও আমার স্ত্রী দেশেই থাকি। কিন্তু আমাদের ছেলে-মেয়ে সবাই লন্ডনে থাকে। আমরাও মাঝে মাঝে গিয়ে তাদের সাথে কিছুদিন থেকে আসি। দেশে যেহেতু আমাদের সন্তানাদি কেউ নেই তাই এখানে আমাদের জন্য কুরবানী দেওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার। তাই আমাদের সন্তানরা চাচ্ছে আমাদের পক্ষ থেকে তারা লন্ডনে কুরবানী করে দিবে। কিন্তু তারা আমাদের থেকে একদিন আগে কুরবানী করে। অতএব তারা যদি তাদের কুরবানীর সময় আমাদের পক্ষ থেকেও কুরবানী করে দেয় তবে কি তা সহীহ হবে? এবং এর দ্বারা কি আমাদের কুরবানী আদায় হবে?

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছেলেরা যদি আপনার পক্ষ থেকে ঐ দেশে কুরবানী করে তাহলে বাংলাদেশে কুরবানীর সময় হওয়ার পরই সেটি করা সমীচিন হবে। অবশ্য ঐ দেশে কুরবানীর সময় হয়ে যাওয়ার পরও যদি তারা সেখানে আপনার কুরবানী আদায় করে দেয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে। কেননা কুরবানী আদায়ের জন্য পশু যেখানে যবাই করা হবে সেখানকার সময় মুখ্য। পশু যবাইকারীর স্থানে কুরবানীর সময় হয়ে গেলেই কুরবানী করা সহীহ হবে। 

    -ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩/৩৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮; ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/৪০

সম্মানিত পাঠক!
মাসিক আলকাউসারের ওয়েব পেজটির উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই বর্তমান সংখ্যাটি হালনাগাদ করতে বিলম্ব হচ্ছে। আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ