রবিউস সানি ১৪৩৮ . জানুয়ারি ২০১৭

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০১

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৩৯৫১ . মুহাম্মাদ আমিরুল ইসলাম . রামপুরা, ঢাকা
    প্রশ্ন:

    গত শুক্রবার আমার বড় ভাই মারা গিয়েছেন। আমি এবং অন্য দুজন কবরে নামলাম। স্বাভাবিকভাবে লাশ কবরে রেখে বাঁশও রেখে দিয়েছি। এমন সময় একজন মাওলানা সাহেব এসে বললেন, লাশ কিবলামুখী করা হয়েছে তো? বললাম, না। এ বিষয়টি যে সুন্নত তা তখন আমরা জানতাম না। এরপর মাওলানা সাহেব নিজেই বাঁশ সরিয়ে মুর্দাকে পুরোপুরি ডান দিকে কাত করে দিলেন। পরবর্তীতে কেউ কেউ আপত্তি করল যে, মুর্দাকে কিবলামুখী করার জন্য মাওলানা সাহেব যে বাঁশ সরালেন তা ঠিক হয়নি। কিবলামুখী করা তো ফরয নয়। আবার কেউ কেউ বললেন, শুধু চেহারা ডান দিকে করা উচিত। পুরো শরীর নয়। জানার বিষয় হল, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা কী?

    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাওলানা সাহেব ঠিকই করেছেন। মাইয়েতকে কবরে ডান  কাতে সিনা কিবলামুখী করে দেওয়া সুন্নত। শুধু চেহারা ডান দিকে ফিরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর এ কাজের জন্য বাঁশ সরাতেও কোনো সমস্যা নেই। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেনতোমরা মাইয়েতকে কিবলামুখী করে দাও। সুফিয়ান সাওরী রাহ. বলেনতাঁর উদ্দেশ্য হলমুর্দাকে ডান কাত করে দেওয়া।

    -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬০৬০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৩; শরহুল মুনইয়াহ ৫৯৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬২৪
  • ৩৯৫২ . সাঈদুর রহমান . পাবনা
    প্রশ্ন:

    জানাযার নামাযে দেখা যায়, অনেক লোক জুতা খুলে তার উপর দাঁড়ায়। অনেকে মাটিতে দাঁড়ায়। আবার অনেকে জুতাসহই নামায পড়ে নেয়।

    জানতে চাই, এভাবে জুতা পরে নামায পড়া জায়েয আছে কি? এক্ষেত্রে সঠিক পন্থা কী?

    উত্তর:

    জায়গা পাক হওয়া জানাযা নামাযের জন্যও শর্ত। তাই নামাযি ব্যক্তির জুতা ও পায়ের নিচের মাটি উভয়টি যদি পবিত্র হয় তবে জুতা পরেও জানাযা নামায পড়া জায়েয আছে। আর দাঁড়ানোর স্থান পবিত্র হলে জুতা খুলেও দাঁড়াতে পারবে। আর দাঁড়ানোর স্থান অথবা জুতার নিচে অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জুতা খুলে তার উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়বে। কেননা জুতার উপর অংশ সাধারণত পাকই থাকে।

    প্রকাশ থাকে যেজুতার নিচের অংশ যেহেতু অপবিত্র হওয়ার আশংকাই বেশি তাই মসজিদের বাইরে জানাযার নামায পড়লে জুতা পায়ে দিয়ে নামায না পড়াই উচিত। এক্ষেত্রে সতর্কতা হলজুতা খুলে তার উপর দাঁড়ানো। 

    -আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬২; শরহুল মুনইয়াহ ২০৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩১
  • ৩৯৫৩ . আবদুল্লাহ আব্বাস . কানাইঘাট, সিলেট
    প্রশ্ন:

    কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক দিন খোঁজাখুজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। একদিন হঠাৎ তার কর্তিত মস্তক নদীতে পাওয়া যায়। এ অবস্থায় এটির গোসল, নামায এবং দাফন-কাফন কীভাবে করতে হবে?

    উত্তর:

    মৃত ব্যক্তির শুধু মাথা বা হাত-পা কিংবা কর্তিত অল্প অংশ পাওয়া গেলে এর গোসলজানাযা কিছুই দিতে হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত মস্তকটি পবিত্র কাপড়ে মুড়িয়ে দাফন করে দিবে। উক্ত মাথার গোসল দেওয়া বা জানাযা পড়া যাবে না।

    প্রকাশ থাকে যেমৃতদেহের মস্তকসহ অর্ধেক পাওয়া গেলে কিংবা মাথা ছাড়া অর্ধেকের বেশি পাওয়া গেলে পূর্ণ লাশের হুকুমে ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে তার গোসল ও জানাযা সবকিছুই নিয়ম মাফিক করতে হবে।

    -কিতাবুল আছল ১/৩৪১; ফাতহুল কাদীর ২/৭৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬১২; শরহুল মুনইয়াহ ৫৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৯
  • ৩৯৫৪ . সাইফুল ইসলাম . মাইজদী, নোয়াখালী
    প্রশ্ন:

    একদিন যোহরের নামাযের উদ্দেশ্যে আমরা কয়েকজন মসজিদে যাচ্ছিলাম। মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দেখলাম জানাযার নামায হচ্ছে। তখন আমরা জানাযা নামাযে শরীক হই। কিন্তু নমাযে কোনো এক কারণে আমাদের একজন আওয়াজ করে হেসে উঠল। এরপর আমরা একত্রে যোহরের নামায আদায় করেছি।

    জানার বিষয় হল, ঐ মুসল্লির জানাযা নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? নামাযে উচ্চস্বরে হাসার কারণে তার অযু ভেঙ্গেছে কি? নতুন অযু ছাড়া তার যোহরের নামায কি আদায় হয়েছে?

    উত্তর:

    জানাযা নামাযে উচ্চস্বরে হাসলে নামায ভেঙ্গে যায়। তবে অযু ভাঙ্গে না। তাই প্রশ্নোক্ত মুসল্লির জানাযা নামায শুদ্ধ হয়নি। তবে এ কারণে তার অযু ভাঙ্গেনি। তাই ঐ অযু দ্বারা তার পরবর্তী নামায পড়া সহীহ হয়েছে।

     

    জানাযা নামাযে হাসা খুবই দুঃখজনক অন্যায় কাজ। এ সময় তো মৃত্যুকে স্মরণ করার সময়। তাই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। 

    -বাদায়েউস সানায়ে ১/১৩৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/১৪৪
  • ৩৯৫৫ . নাসিরুদ্দীন . আহমদ নগর, কুমিল্লা
    প্রশ্ন:

    আমাদের মহল্লার মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। তাই মসজিদের কাছাকাছি এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জায়গায় মসজিদের আদলে টিন দিয়ে একটি নামাযের জায়গা বানানো হয়েছে। আগত রমযান মাসেও এখানেই হয়ত নামায পড়তে হবে। রমযানের শেষ দশকে এই অস্থায়ী মসজিদটিতে ইতিকাফ করা যাবে  কি না?

    উত্তর:

    ইতিকাফ শুধু মসজিদেই করা যায়। অস্থায়ী নামায ঘরে ইতিকাফ সহীহ নয়। সুতরাং যারা ইতিকাফ করতে ইচ্ছুক তারা অন্য মসজিদে গিয়ে ইতিকাফ করবেন। আর আপনাদের মসজিদ যেহেতু এখনো নির্মাণাধীন তাই সুব্যবস্থা না থাকলে সেখানে ইতিকাফ না করলেও চলবে। এতে কোনো অসুবিধা হবে না। 

    -সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৪/৩১৬; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২৬৪; মাবসূত, সারাখসী ৩/১২১; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৪/৪৬১; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯০

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ