রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ . ডিসেম্বর ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ১১

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ৩৯১০ . রাবেয়া বিনতে রেজা . উত্তরা, ঢাকা
    প্রশ্ন:

     

    আম্মুকে দেখেছি ঋতুস্রাবের দিনগুলোতেও বিভিন্ন মাসনুন দুআ পড়েন। মাঝেমধ্যে অল্পস্বল্প তাসবিহও পড়েন। আম্মুর দেখাদেখি আমরাও এ সময়গুলোতে মাসনুন দুআসমূহ আদায় করি। কিন্তু একজন বলল, মেয়েদের জন্য এ সময়ের দুআ-দরূদ পড়া কিংবা যিকির-আযকার করা কোনোটিই জায়েয নেই। তাই বিষয়টির সমাধান জানতে চাই।


     

    উত্তর:

    ঐ লোকের কথা ঠিক নয়। মাসিক স্রাবের দিনগুলোতে নারীগণ দুআ-দরূদযিকির-আযকারতাসবীহ-ইস্তিগফার সবই করতে পারবে। তবে এ অবস্থায় কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা যাবে না। এক বর্ণনায় এসেছে,

    عَنْ مَعْمَرٍ قَالَ: سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ، عَنِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ أَيَذْكُرَانِ اللَّهَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ: أَفَيَقْرَآنِ الْقُرْآنَ؟ قَالَ: لَا.

    মামার রাহ. বলেনআমি যুহরী রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলামঋতুমতী নারী ও যার উপর গোসল ফরয হয়েছে সে আল্লাহর যিকির করতে পারবেতিনি বললেনহাঁপারবে। আমি জিজ্ঞাসা করলামকুরআন তিলাওয়াত করতে পারবেতিনি বললেননা। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকহাদীস ১৩০২

    عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: الْحَائِضُ وَالْجُنُبُ يَذْكُرَانِ اللَّهَ وَيُسَمِّيَانِ.

    ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেনঋতুমতী নারী ও যার উপর গোসল ফরয হয়েছে সে আল্লাহর যিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহও পড়তে পারবে।

    -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৩০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৬৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৩
  • ৩৯১১ . উবায়দুল্লাহ . কিশোরগঞ্জ
    প্রশ্ন:

     

    আমি একদিন নফল নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা লাহাব এবং দ্বিতীয় রাকাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার উপরের সূরা নাছ্র পড়ে ফেলি। জানতে চাই, এভাবে করাতে আমার উক্ত নামায মাকরূহ হয়েছে কি?


     

    উত্তর:

    নাআপনার ঐ নামায মাকরূহ হয়নি। নফলে সূরার তরতীব ভঙ্গ হওয়া তেমন দোষণীয় নয়। অবশ্য ফরয-ওয়াজিব নামাযে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা মাকরূহ।

    -শরহুল মুনইয়াহ ৪৯৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬৮
  • ৩৯১২ . নওয়াব সিদ্দীক . কুড়িগ্রাম
    প্রশ্ন:

    আমি একজন মুয়াযযিন। মসজিদের নির্দিষ্ট কোনো খাদেম না থাকায় প্রায়ই মসজিদের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে দেখা যায়, কোনো কোনো সময় আযানের পূর্বে অযু করার সুযোগ হয় না। তাই অযু ছাড়াই আযান দিতে হয়।

    হুযুরের নিকট জানতে চাই, অযু ছাড়া আযান দেওয়ার হুকুম কী?


    উত্তর:

    অযু অবস্থায় আযান দেওয়া মুস্তাহাব। একাধিক হাদীস-আছারে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তবে আযান সহীহ হওয়ার জন্য অযু শর্ত নয়। অযু ছাড়া আযান দিলেও আযান সহীহ হয়ে যাবে।

    ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,

    لاَ بَأْسَ أَنْ يُؤَذِّنَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ.

    অযু ছাড়া আযান দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। -মুসান্নাফে ইবনে  আবী শাইবাহাদীস ২২০২

    তবে অযু ছাড়া আযান দেওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।

    -সুনানে কুবরা, বায়হাকী ১/৩৯৭; কিতাবুল আছল ১/১১০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৯৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৩
  • ৩৯১৩ . লোকমান রাহাত . টঙ্গী, গাজীপুর
    প্রশ্ন:

    গত রমযানে একদিন তারাবীহর নামাযের পূর্বে সিজদার আয়াতের কথা ঘোষণা করতে ভুলে যাই। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে সিজদা করিনি। এরপর স্বাভাবিকভাবে নামায শেষ করেছি। জানতে চাই, আমাদের উক্ত নামায কি আদায় হয়েছে? যদি আদায় না হয় তবে এখন আমাদের করণীয় কী?


    উত্তর:

    তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করা ওয়াজিব। নামাযের তিলাওয়াতের সিজদা নামাযেই আদায় করতে হয়। নামাযে আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায়ের সুযোগ থাকে না। তবে উক্ত নামায আদায় হয়ে গেছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত তিলাওয়াতের সিজদা আদায় না করার কারণে গুনাহ হয়েছে। এজন্য আপনাকে ইস্তেগফার করতে হবে। 

    -শরহুল মুনইয়াহ ৫০১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪১; আলবাহরুর রায়েক ২/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫১৬
  • ৩৯১৪ . নাঈম রেজা . ঝিগাতলা, ঢাকা
    প্রশ্ন:

    আমরা কয়েকজন সাথী একদিন ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলাম। পথে জুমার সময়ে ট্রেন না থামায় আমরা আর জুমার নামায পড়তে পারিনি। সিলেট শহরে পৌঁছে ট্রেন থেকে নেমে এক মসজিদে ঢুকে আমরা যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। জানতে চাচ্ছি, জামাতের সাথে এভাবে যোহরের নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি পৃথকভাবে আদায় করা উচিত ছিল?


    উত্তর:

    প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের যোহর পড়া ঠিক হয়েছে। তবে জামাতে পড়া ঠিক হয়নি। কারণ যে এলাকায় জুমা হয় সেখানে যোহরের জামাত নিষেধ। মাযুরমুসাফির এবং অন্য যারা জুমার জামাতে শরিক হতে পারেনি তারা প্রত্যেকে আলাদাভাবে যোহরের নামায আদায় করবেজামাত করবে না।

    -ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৭

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ