গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ্ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা-এর মুখপত্র

মাসিক আলকাউসার

অক্টোবর-২০১১, যিলকদ-১৪৩২

নফল হজ্ব কখন করব, কীভাবে করব

শাবান থেকে যিলহজ পর্যন্ত ইবাদতের এক ধারাবাহিক ব্যবস্থা রেখেছেন আল্লাহ তাআলা। এ সময়ের প্রতিটি মাসই বিশেষ বিশেষ ইবাদত ও আহকামের জন্য নির্ধারিত। রমযানুল মুবারকে আল্লাহ তাআলা রোযা ফরয করেছেন। তারাবীহর নামাযকে সুন্নত হিসেবে দিয়েছেন। এই রমযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হজ্বের মাস শুরু হয়ে গেছে। হজ্বের মাসগুলোর সমাপ্তি হয় যিলহজ্ব মাসে। আল্লাহ তাআলা যাদেরকে হজ্ব করার তাওফীক দেন তারা হজ্ব করেন। আর যাদের হজ্ব করার তাওফীক হয়নি তাদের জন্যও দশই যিলহজ্বে রয়েছে অন্য ইবাদত। শেষ পর্যন্ত কুরবানীর মধ্য দিয়ে তাদের আমল সমাপ্ত হয়। এ পুরো সময়টিই আসলে ইবাদতের সময়।

বাইতুল্লাহ যেন চুম্বক

এখন যে সময়টা পার হচ্ছে এটি হজ্বের মাসসমূহ-এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নেক বান্দারা দুনিয়ার নানান প্রান্ত থেকে বাইতুল্লাহ শরীফ অভিমুখে ছুটছেন। মনে হচ্ছে, দুনিয়ার একদম মধ্যখানে অবস্থিত বাইতুল্লাহ শরীফের মাঝে কোনো চুম্বক লাগানো আছে। এই চুম্বক চারদিক থেকে মানুষকে টেনে আনছে। হযরত ইবরাহীম আ. বাইতুল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি দুআ করেছেন-

فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ

তরজমা : সুতরাং মানুষের অন্তরে তাদের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে দিন এবং ফলাদি দ্বারা তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করে দিন যেন তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। (সূরা ইবরাহীম : ৩৭)

অর্থাৎ হে আল্লাহ! মানুষের

অন্তরগুলোকে এমন বানিয়ে দিন যে, তারা যেন ছুটে ছুটে বাইতুল্লাহর কাছে চলে আসে। এ দুআ এমনভাবেই কবুল হয়েছে যে, ধারাবাহিকভাবে সব যুগে আগ্রহ, মহববত ও শ্রদ্ধা নিয়ে মানুষের কাফেলা বাইতুল্লাহর অভিমুখে ছুটে আসছে। বিশেষত হজ্বের মওসুমে এ দৃশ্যটি এমনভাবে চোখে পড়ে যে, একটি চুম্বক যেন চারদিক থেকে তাওহীদ অবলম্বনকারীদের টেনে টেনে আনছে নিজের দিকে।

হজ্বের ফযীলত ও ফায়েদা

কুরআনে করীমে বর্ণিত হয়েছে, যখন মানুষ হজ্বের উদ্দেশে বের হয় তখন সে হজ্বের কল্যাণ ও উপকারিতাগুলো নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করে। হজ্বে গমনকারী প্রত্যেকেই এ বিষয়টি স্বীকার করবেন যে, হজ্ব চলাকালে দুনিয়া ও আখেরাতের অসংখ্য কল্যাণ তারা দেখতে পান। মোটকথা হজ্বের কল্যাণ ও উপকারিতা অগণিত অসংখ্য।

ইবাদতের সীমা নির্ধারিত

কিন্তু মনে রাখার বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ জাল্লা শানুহু আমাদেরকে এমন একটি দ্বীন দান করেছেন, যে দ্বীন প্রতিটি বিষয়েই ভারসাম্যের বিধান রেখেছে। অতিশয়তা, বাড়াবাড়ি এবং সীমা পার হয়ে যাওয়া আমাদের ধর্মে বাঞ্ছনীয় নয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বহু ইবাদতের ফযীলত বর্ণনার পাশাপাশি ইবাদতগুলোর সীমাও বর্ণনা করে দিয়েছেন। যেমন : নামায। কত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত! দ্বীনের বড় রুকন, ইসলামের অন্যতম প্রধান ভিত। কিন্তু বিশেষ এমন কিছু সময় রয়েছে, যে সময়গুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, তখন নামায পড়া মাকরূহ। এ কারণেই সূর্য হেলার আগ মুহূর্তে নামায পড়া নিষেধ। সূর্য উঠার সময় নামায পড়া নিষেধ। সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় নামায পড়া নিষেধ।

এমন নফল শরীয়ত সমর্থিত নয়

নফল নামাযের ফযীলত অনেক। এ নামাযের বহু সওয়াব ও উত্তম প্রতিদান রয়েছে। কিন্তু যে মুহূর্তে মানুষের ওপর অন্য কোনো দায়িত্ব অর্পিত থাকে তখন তার জন্য নফল নামায পড়া নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, বাড়িতে বাবা অথবা মা, বিবি অথবা বাচ্চা অসুস্থ। কষ্ট ও যন্ত্রণায় ভুগছে। ব্যথায় চিৎকার করছে। তার চিকিৎসার জন্য আপনার এখন তার দিকে মনোযোগ দেওয়া খুব দরকার। সে সময় সেদিকে না তাকিয়ে আপনি যদি নফল পড়তে থাকেন, তাহলে সেটি শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ ওই সময়ের দাবি হচ্ছে ওই অসুস্থ ব্যক্তির শুশ্রূষা তরা ও তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া। তখন অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যস্ত হলেই বেশি সওয়াব

পাওয়া যাবে।

ডিউটির সময় নফল নামায

কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী একজন। ডিউটি করার জন্য নিজের আট ঘণ্টা সময় তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। তার কর্তব্য হচ্ছে ওই আট ঘণ্টা সময় দায়িত্ব পালনে ব্যয় করা। এক্ষেত্রে যদি তিনি তার ডিউটি ছেড়ে নফল নামায পড়তে শুরু করেন তাহলে সেটা তার জন্য জায়েয হবে না; বরং দায়িত্বে অবহেলার গুনাহ হবে। নফল নামায অত্যন্ত ফযীলতের আমল হওয়া সত্ত্বেও এমনটি হবে।

ঋণ পরিশোধ নফল হজ্বের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

একই ব্যাপার হজ্বের ক্ষেত্রেও। হজ্ব অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। হজ্বের ফযীলত অনেক। তার সওয়াব ও প্রতিদানও অনেক। আল্লাহ তাআলা হজ্ব ফরয করেছেন জীবনে একবার। যদি কোনো ব্যক্তি একবার হজ্ব পালন করে এই ফরয আদায় করে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে নফল হজ্ব আদায়ের সময় দেখতে হবে যে, নফল হজ্ব আদায়ের জন্য কোনো ফরয বা ফরয পর্যায়ের কর্তব্য বিসর্জন দিয়ে যেতে হচ্ছে কি না। যেমন-নফল হজ্ব করতে চাচ্ছেন এমন কেউ ঋণগ্রস্ত আছেন। এদিকে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে কিংবা ঋণদাতা ঋণ তলব করছে। তাহলে তার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে ঋণ আদায় করা। তা না করে তিনি নফল হজ্বে চলে যাওয়ায় ঋণদাতার যে কষ্ট ও ভোগান্তি হবে তাতে সওয়াবের পরিবর্তে অন্য দিক থেকে গুনাহর পাল্লা ভারি হয়ে যাবে।

একইভাবে ঋণের মতো অন্যান্য বহু পাওনাদির বিষয়েও মনোযোগ দিতে হবে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিত্তবানকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেতন-বোনাস বকেয়া রেখে এবং তাদের কষ্টের মধ্যে ফেলে রেখে তারা নফল হজ্ব কিংবা উমরায় চলে যান। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ভারসাম্যময়তার ধর্ম

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন একটি ভারসাম্যময় ধর্ম দান করেছেন, যে ধর্মে সব ইবাদতই আছে নিজ নিজ জায়গায়। জায়গামতো বা যথাস্থানে রাখলে সেসবের মাধ্যমে সওয়াব হাসিল হবে। ফযীলত অর্জিত হবে। আল্লাহর কাছে কবুল হবে। কিন্তু সে বিষয়গুলোকে আপন জায়গা থেকে সরিয়ে নিলে কিংবা সীমা অতিক্রম করলে সওয়াবের পরিবর্তে সেগুলোই উল্টো গুনাহর কারণে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

মিথ্যা বলে হজ্ব করা

হজ্বের বিষয়টিও এ রকম। ধরুন, আপনি ফরয হজ্ব পালন করেছেন। এখন নফল হজ্ব করতে চান। নফল হজ্ব তো নফলই, ফরয-ওয়াজিব নয়। অপরদিকে মিথ্যা বলা হারাম। মিথ্যা বলে নফল হজ্ব আদায় করা জায়েয নেই। অথচ দেখা যায়, কেউ কেউ নফল হজ্ব আদায়ের আগ্রহে ভিসার জন্য এমন ভাষায় দরখাস্ত জমা দেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না; বরং অনেক অবাস্তব কথা বলে দেন। এই মিথ্যা বলে নফল হজ্ব করলে এতে বরং গুনাহ ও আযাবের আশঙ্কা বিদ্যমান। সুতরাং অবধারিত গুনাহর কাজ করে কেউ হজ্ব করতে গেলে তার কী সওয়াব হবে! আমাদের সমাজে এসব ক্ষেত্রে সীমাহীন বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ির আচরণ চালু আছে। লোকেরা শুনেছে, হজ্ব করা সওয়াবের কাজ। হজ্ব বহু ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। হজ্বের আগ্রহও তাদের অন্তরে বিদ্যমান। কিন্তু কোন অবস্থায় নফল হজ্ব পালন করা উচিত, কোন অবস্থায় উচিত নয়-এ বিষয়ের চিন্তাভাবনা একদম নেই।

নফল হজ্ব এভাবে করা ঠিক নয়

ভেবে দেখার মতো অপর একটি বিষয় হচ্ছে, যখন আমরা অন্য কোনো দেশে যাই, তখন এ চুক্তিতে আমরা আবদ্ধ হই যে, সে দেশে থাকা অবস্থায় আমরা সেখানকার আইন মেনে চলব। যতক্ষণ পর্যন্ত সে দেশের আইন আমাদেরকে কোনো নাজায়েয কাজ করতে বাধ্য না করে ততক্ষণ পর্যন্ত সে আইন মেনে চলা শরীয়তের দৃষ্টিতেও আবশ্যকীয়। কিন্তু আমি দেখতে পাই, আমি পাঁচ বছরের মধ্যে হজ্বে যাইনি-এমন মিথ্যা বক্তব্য লিখেও কেউ কেউ হজ্বে যাওয়ার অনুমতি সংগ্রহ করে থাকেন। অনেকে লুকোছাপা করে, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়েও নফল হজ্ব করার চেষ্টা করেন। আমি মনে করি, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি কোনো সহীহ তরীকা নয়। মিথ্যা বলে, আইন অমান্য করে অথবা চুক্তি লঙ্ঘন করে নফল হজ্ব পালন করা সঙ্গত নয়। আল্লাহ তাআলা জীবনে একবার হজ্ব পালন করা ফরয করেছেন। সেটি আপনি পালন করেছেন। এরপর পাঁচ বছর, দশ বছর পর যখন আবারও আল্লাহ তাআলা তাওফীক দেবেন হজ্ব করবেন, কিন্তু প্রতি বছর হজ্ব করার অপরিহার্যতা নিজের ওপর আরোপ করা-চাই মিথ্যা বলে হোক, চাই চুক্তি ভেঙ্গেই হোক-এটা কোনোভাবেই সঙ্গত নয়।

মেয়েটি কে?

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহ. একবার হজ্বে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে একটি কাফেলাও ছিল। পথে সফরসঙ্গীদের কারো একটি মুরগি মরে যায়। মুরগিটিকে পথের পাশে আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহ. কাফেলা থেকে সামান্য পেছনে পেছনে আসছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন, কাফেলার লোকেরা মুরগিটি ফেলে কিছুটা সামনে চলে যাওয়ার পর কাছের বসতি থেকে একটি মেয়ে বের হয়ে এল। সে দ্রুত মরা মুরগিটি নিয়ে কাপড়ের নিচে লুকিয়ে ফেলল। তারপর দ্রুতই আবার তার বাড়িতে ফিরে গেল। এ দৃশ্য দেখে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহ. পেরেশান হয়ে গেলেন। তিনি ভাবতে লাগলেন, এত আগ্রহের সঙ্গে একটি মরা মুরগি উঠিয়ে নিয়ে গেছে, মেয়েটি কে? শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মেয়েটির বাড়ির সামনে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে কে? ভাগাড় থেকে এভাবে একটা মরা মুরগি সে কেন তুলে আনল।

হজ্ব না করে ফিরে আসা

মেয়েটি প্রথমে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল না। যখন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহ. তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করতে লাগলেন তখন মেয়েটি বলল, আমার আববাজানের ইন্তেকাল হয়ে গেছে। তিনি আমাদের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। আমার আম্মা বিধবা, আমি একা এবং একটি মেয়ে। ঘরে খাওয়ার মতো কিছু নেই। বেশ কয়েকদিন ধরেই আমরা এমন পরিস্থিতির মধ্যে আছি যে, এ অবস্থায় শরীয়তে মরা প্রাণী খাওয়ার অনুমতি আছে। এজন্য গত কিছুদিন যাবত কেউ এই ভাগাড়ে কোনো মৃত প্রাণী ফেলে গেলে আমরা সেটা তুলে এনে খাই এবং এভাবেই দিন পার করি। মেয়েটির এ ঘটনা শুনে তিনি ভীষণ মর্মাহত হলেন। কষ্ট পেলেন। তিনি তখন ভাবলেন, আল্লাহর এই বান্দারা মরা প্রাণী খেয়ে দিন পার করছে আর আমি যাচ্ছি নফল হজ্বে! তখন তিনি তার সহকারীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কত আছে? সে বলল, দুই হাজার দিনার আছে। তিনি বললেন, বাড়ি ফিরে যেতে যত লাগে-প্রায় বিশ দিনার-নিজের কাছে রেখে দাও। বাকি দিনার এই মেয়েটিকে দিয়ে দাও। এতে এই মেয়ে ও তার পরিবারের যে উপকার হবে, আল্লাহ তাআলার রহমতের প্রতি আমার আশা, তাতে তিনি হজ্বের চেয়ে বেশি সওয়াব আমাদেরকে দান করবেন। এ কথা বলে হজ্বের সফর ক্ষান্ত দিয়ে তিনি আবার বাড়ির দিকে ফিরে গেলেন।

সীমার মধ্যে থেকে ইবাদত করুন

আল্লাহ তাআলা যে দ্বীন আমাদেরকে দান করেছেন এই দ্বীন প্রতিটি বস্ত্তকে রাখে যথাস্থানে। হজ্বের ইবাদতের ফযীলত রয়েছে স্বস্থানে। যথাস্থানে আছে তার মাহাত্ম ও মর্যাদা এবং ফযীলত ও উপকারিতা। কিন্তু এর সবকিছুই সীমার বৃত্তের ভেতর। সীমার বাইরে গিয়ে কোনো কাজই আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় নয়। সীমার মধ্যে থেকে ইবাদতে নিমগ্ন থাকাই হচ্ছে শরীয়তের কাম্য। এতে ইনশাআল্লাহ বহু সওয়াব ও উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

 

(খুতবাতে উসমানী-তৃতীয় খন্ড থেকে সংক্ষেপিত)

 

অনুবাদ : শরীফ মুহাম্মদ