গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ্ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা-এর মুখপত্র

মাসিক আলকাউসার

নভেম্বর ২০০৯, যিলক্বদ ১৪৩০

ইহরামের চাদরকেই ইহরাম মনে করা

হজ্ব বা উমরার সূচনা হয় ‘ইহরাম’ দ্বারা। হজ্ব বা ওমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করলে ‘ইহরাম’ সম্পন্ন হয়। ইহরামের মাধ্যমে হজ্ব শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ে চুল মুণ্ডন বা ছোট করার দ্বারা ‘হালাল’ হওয়া পর্যন- ইহরামের হালত বাকী থাকে। ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তিকে ‘মুহরিম’ বলে। ইহরামের হালতে পুরুষের জন্য পোষাকের বিধান এই যে, শরীরের কোনো অঙ্গের আকারে প্রস'তকৃত বা সেলাইকৃত পোষাক পরিধান করা যাবে না। টুপি, মোজা, জামা, কোর্তা, সদরিয়া, গেঞ্জি, পাজামা, সেলোয়ার, শার্ট, প্যান্ট, আন্ডারওয়্যার এবং এ ধরনের সকল পোষাক ইহরামের হালতে পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। এজন্য তারা ইহরামের হালতে শুধু চাদর ব্যবহার করবেন। একটি চাদর পাজামার স্থলে অপরটি পাঞ্জাবির স'লে। ইহরামের হালতে লুঙ্গি পড়ার অনুমতি থাকলেও উত্তম হল চাদর পরিধান করা। পুরুষের জন্য ইহরামের হালতে মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করাও জায়েয নয়। এজন্য চাদর পরিধান করা যাবে, কিন' এর দ্বারা মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করা যাবে না। এই দুই চাদর পাক-সাফ হওয়া চাই। সাদা হলে ভালো। তবে নতুন হওয়া জরুরি নয়।

এই চাদর যেহেতু ইহরামের হালতের পোষাক তাই অনেক সময় একে ‘ইহরাম’ বলা হয়। কিন' এর অর্থ এই নয় যে, নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ ছাড়া শুধু এই কাপড় পরলেই কেউ ‘মুহরিম’ হয়ে যাবে। কেননা নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ ছাড়া শুধু দু’টি সাদা কাপড় পরার দ্বারা ‘ইহরাম’ সম্পন্ন হয় না এবং হজ্বও শুরু হয় না।

তদ্রূপ ইহরামের চাদরকে ইহরাম মনে করার কারণে কেউ কেউ মনে করেন, ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যায় না কিংবা তা নাপাক হয়ে গেলে যেন ইহরামই নষ্ট হয়ে গেল! অথচ তা নয়। ইহরামের চাদর পরিবর্তন করার, ধোয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তদ্রূপ তা নাপাক হয়ে গেলেও ইহরামের কোনো ক্ষতি হয় না। চাদরটি ধুয়ে পাক করে নিলেই হল কিংবা তা বদলে নিলেই হল।

এই বিষয়টি এত লম্বা করে বলার কারণ এই যে, আমি নিজে অনেক ভাইকে এই সব ভুল ধারণা পোষণ করতে দেখেছি, যার মূল কথা এই যে, তারা ইহরামের পোষাককেই ‘ইহরাম’ মনে করেছেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই মাসআলাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, যদি কোনো ব্যক্তি ভুলক্রমে ইহরামের চাদর ব্যাগে রেখে দেয় এবং তা অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে ভিতরে চলে যায়, যার কারণে জিদ্দা পৌঁছার আগে ওই কাপড় পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না, অন্যদিকে বিমান বন্দরে ইহরামের হালতে পরা যায় এমন কোনো কাপড়ের ব্যবস্থা করাও সম্ভব না হয় তখন এই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাওয়ার কারণ নেই যে, ‘ইহরাম’ কীভাবে সম্পন্ন হবে? বরং কর্তব্য হল বিমান জিদ্দায় পৌঁছার ঘন্টাখানেক আগে সাধারণ কাপড় পরিহিত থাকলেও নিয়ত ও তালবিয়ার মাধ্যমে ‘ইহরাম’ সম্পন্ন করবে। জিদ্দা পৌঁছার পর লাগেজপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোষাক পরিবর্তন করে চাদর পরিধান করবে। আর ইহরামের হালতে দু-আড়াই ঘন্টা বা তার বেশি সময় জামা-পাজামা ইত্যাদি পরিহিত থাকার কারণে যে কাফফারা আসে তা আদায় করবে।

তো যাদের এই বিভ্রানি- আছে যে, ইহরামের চাদরই ইহরাম তারা সেই চাদর পরা ছাড়া নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করলেও ইহরাম হবে না মনে করে বিনা ইহরামে জিদ্দায় পৌছে যায়, যার কারণে বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম করার গুনাহ যেমন হয় তেমনি দমও ওয়াজিব হয়ে যায়। এজন্য কর্তব্য হল, হজ্বের পূর্বে হজ্বের মাসাইল পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যেন বিভ্রানি- বা ভুল প্রচারণার শিকার হয়ে অযথা কষ্ট পোহাতে না হয় এবং অসচেতনভাবে হজ্ব অসম্পূর্ণ বা বিনষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা না থাকে।