শাওয়াল ১৪৩১ . অক্টোবর ২০১০

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ৬ . সংখ্যা: ১০

দরদী মানুষটি আর নেই!

 বর্তমান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন স্বাধীনতার পূর্বে ছিল ইসলামিক একাডেমী। এর পূর্ণাঙ্গ অফিস কোথায়, কীভাবে ছিল তা আমার জানা না থাকলেও ইসলামিক একাডেমীর প্রথম পরিচালক মরহুম আবুল হাশেম সাহেব (বদরুদ্দীন ওমরের পিতা)কে বাইতুল মুকাররম দোতলা মার্কেটের নিচতলার একটি কক্ষে বসতে দেখেছি। পূর্বমুখী এই কক্ষটিতে বসে তিনি গবেষণা ও লেখালেখি করতেন। এখন তা দোকানে পরিণত হয়েছে। এখন যেখানে বাইতুল মুকাররমের উত্তরগেট স্বাধীনতার পর ঠিক সেখানে ও তার পশ্চিম পার্শ্বে দুটি লাল বিল্ডিং ছিল। পূর্ব পার্শ্বের বিল্ডিং-এ ছিল জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র, যা এখন গুলিস্তানে স্থনান্তরিত হয়ে গেছে। আর পশ্চিম পার্শ্বের দোতলা বিল্ডিংটি ছিল ইসলামিক একাডেমী থেকে সদ্য      রূপান্তরিত ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের অফিস ও হলরুম। দোতলার একটি বড় রুমে মহাপরিচালক বসতেন, তাঁর পাশের একটি রুমে বসতেন পরিচালক শাহেদ আলী সাহেব।

ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ১৪০০ হিজরী উদযাপন্তঅনুষ্ঠান, পনের দিনব্যাপী সীরাত-মাহফিল এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে রেডিও-টেলিভিশনসহ পত্র-পত্রিকার সাংবাদিকদের দাওয়াত করা হত। রেডিও থেকে অধম লেখককেই বেশি পাঠানো হত। সম্ভবত এ ধরনের কোনো এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ওমর আলীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। বিশ্বকোষপ্রকল্পটি তখন ছিল মার্কেটের দোতলার একটি কক্ষে। অল্প দিনেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি আমাকে বিশ্বকোষে কিছু লেখা ও অনুবাদের প্রস্তাব করেন। আমি বিশ্বকোষের ডবল আকার ডবল ইকার ইত্যাদি অভিনব কিছু বানানরীতির কারণে অপারগতা প্রকাশ করি। কিন্থ পরে মনে হয়েছে যে, এটা ছিল আমার একটা ভুল সিদ্ধান্ত। তাই পরে অনেক তরুণ আলেমকে বিশ্বকোষে লেখার জন্য উৎসাহিত করেছি এবং বলেছি যে, বিশ্বকোষে আপনার একটি লেখা থাকা মানে আপনার একটি আন্তর্জাতিক সনদ থাকা। আমার পরামর্শে অনেকেই উপকৃত হয়েছেন।

যাই হোক, মাওলানা ওমর আলী একজন মেধাবী ও কর্মঠ অফিসার হিসেবে ইসলামী বিশ্বকোষে তাঁর অপরিহার্যতা প্রমাণ করে গেছেন। প্রায় ৩০ বছরের চাকুরি-জীবনে স্বল্প সময়ের বদলি ব্যতীত পুরো সময়টাই ইসলামী বিশ্বকোষে ব্যয় করেছেন। বিশ্বকোষ বিভাগও তাঁকে ছাড়া বিশ্বকোষের   অস্তিত্বের কথা    চিন্তাও করতে পারত না। প্রায় ৩০ খণ্ডে সমাপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ এবং পরিকল্পিত ৩০ খণ্ড সীরাত-বিশ্বকোষের ১৪/১৫ টি খণ্ড তাঁর হাতেই সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল। প্রথম প্রকল্পটি বহুবার বিলুপ্ত হয়ে যায় যায় করেও ওমর আলী সাহেবের প্রচেষ্টাতেই তা আজ সমাপ্তির মুখ দেখতে পেরেছে। তাই বিশ্বকোষের সাফল্য মানে ওমর আলীর সাফল্য-একথা বললে অত্যুক্তি হবে না।

যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক শফীক রেহমান টেলিভিশনের কোনো এক চ্যানেলে ইসলামী বিশ্বকোষের পরিচালক হিসেবে ওমর আলী সাহেবের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানে অনেক প্রশংসার সাথে একথাও বলেছিলেন যে, ‘‘ইসলামী বিশ্বকোষ প্রকাশ করে বাংলাসাহিত্যে আপনারা বিরাট ভূমিকা রাখলেন।’’ তার কথার সাথে আমি আরেকটি কথা যোগ করতে চাই যে, ‘‘সীরাত-বিশ্বকোষ করে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে আরো সম্মানিত করা হল।’’

সীরাত-বিশ্বকোষের  ৩০ খণ্ডের ১০ খণ্ড সব নবীদের জন্য, ১০ খণ্ড শুধু আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এব ১০ খণ্ড সাহাবায়ে কেরামের জন্য। এটিও বাংলাসাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি হবে ইনশাআল্লাহ।

বিশ্বকোষের এই ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ভিন্ন কিছুর পিপাসা তীব্রভাবে অনুভব করতেন। দেখা হলেই বলতেন, কবে এই চাকরি ছাড়ব আর উম্মতের জন্য কিছু কাজ করব? দুএকবার তো চাকরি ছেড়ে দিতেও চেয়েছিলেন। আমরা বন্ধু-বান্ধবরা চাকরির মেয়াদ শেষ করার পরামর্শ দিয়ে এবং পদ ও পদবী দ্বারাও যে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনেক ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করা যায় এ কথা বুঝিয়ে শুনিয়ে তাঁকে মত পরিবর্তন করতে সাহায্য করেছি।

তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল উম্মতের দরদ ও ফিকির, যা মানুষকে প্রকৃত ওয়ারিছে নবীহতে সাহায্য করে তখন তার মধ্যে 

لعلك باخع نفسك           

এর ছায়াপাত ঘটে এবং সব সময় একটি জ্বলন ও বেচাইনীর মাঝে জীবন যাপন করতে বাধ্য  হয়। এই ছিফাত যখন কোনো মানুষের মধ্যে বিরাজ করে তখন তার সামনে জীবনের অন্য সব কর্মতৎপরতা ফিকে হয়ে যায়। তার চিন্তা শুধু একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকে। আর তা হচ্ছে কীভাবে মানুষের সম্পর্ক তার খালেক ও মালিকের সাথে হয়ে যায়। এই একটিমাত্র চিন্তা তাকে অন্য সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করে দেয়। ওমর আলী সাহেবের মধ্যে এই চিন্তাটা এত প্রগাঢ়ভাবে গেড়ে বসেছিল যে, সব সময় শুধু ভাবতেন, কখন তিনি অবসর হবেন, আর কখন দাওয়াতী কর্মতৎপরতায় নিজেকে বিলীন করে দেবেন? তাঁর কথাবার্তায় যে ব্যাকুলতা ও উদ্দীপনা পাশাপাশি ঝরত তার মূল কারণও এই তড়প ও বেচাইনী।

হযরত শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ.-এর খান্দানের একজন বুযুর্গ আছেন হযরত মাওলানা কলিম সিদ্দীকী ছাহেব। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি একবার বাংলাদেশ-সফরে এসেছিলেন। অনেক প্রোগ্রামে আমি ও মাওলানা ওমর আলী সাহেব তাঁর সাথে ছিলাম। অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াত দেওয়ার জন্য মাওলানা কলিম সিদ্দীকীর একটি দাওয়াতী সংগঠন আছে, যা ভারতে ও ভারতের বাইরে ইসলামের দাওয়াতে ব্যস- রয়েছে। দরদ ও ফিকিরের একাত্মতার কারণে মাওলানা ওমর আলী সাহেব ঐ সংগঠনের বাংলাদেশ-শাখার আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের একটা বিরাট অঞ্চল জুড়ে রয়েছে উপজাতিদের বাস। এদের মধ্যে ইসলামের কোনো দাওয়াত না থাকায় খৃষ্টান মিশনারীরা তাদেরকে অনেক আগ থেকেই কব্জা করে রেখেছে। অথচ আমরা যদি এই সহজ সরল মানুষগুলির মাঝে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে পারতাম তাহলে এদের ইতিহাস ভিন্ন কিছু হতে পারত। মাওলানা ওমর আলী সাহেব হযরত মাওলানা কলিম সিদ্দীকীর ঐ দাওয়াতী সংগঠনের মাধ্যমে উপজাতিদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে উপসি'ত হয়েছিলেন এবং অল্প দিনে বেশ সাড়াও পেয়েছিলেন।

মাওলানা ওমর আলী মূলত আলিয়া ও ভার্সিটির ছাত্র হলেও কওমী ঘরানার আলিম-ওলামার সাথেই তাঁর বেশি ওঠা-বসা ছিল। তাঁর বড় আক্ষেপ ছিল, কওমী মাদরাসায় কেন পড়তে পারলেন না! যাও বা কিছু আলিয়ায় পড়লেন, কলেজ-ভার্সিটিতে পড়ার উদ্দেশ্যে ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজি কেন পড়লেন! ফার্সি না জানার কারণে ইশকে ইলাহীর এক বিরাট খাযানার সাথে অপরিচিত থাকতে হয়েছে। তাঁর অনুবাদকর্মেও ফার্সি শে, বয়েত ইত্যাদির অনুবাদ অন্যের দ্বারা করাতে হত।

তিনি প্রায়ই বলতেন যে, ‘একটা সাধারণ কৃষকপরিবারে আমার জন্ম, যেখানে কেউ আলেম ছিলেন না। এমনকি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতও কেউ ছিল না। তবে বাবা খুব ধার্মিক মানুষ ছিলেন, আলেম-ওলামা ও পীর-বুযুর্গদের খুব খেদমত করতেন। আমার ধারণা, এ কারণেই হয়ত আল্লাহ তাআলা আমাকে মেহেরবানী করে দু কলম লেখাপড়া করার তাওফীক দান করেছেন।

বিশ্ববিখ্যাত মনীষী হযরত সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর বেশ কিছু বিখ্যাত গ্রনে'র [(ইসলামের সোনালী যুগে মুসলিম শাসকদের ইতিহাস আর ইসলামের ইতিহাস অভিন্ন থাকলেও পরবর্তী যুগে দুই ইতিহাস ভিন্ন হয়ে যায়। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই পূর্ববর্তী ইতিহাস লিখতে গিয়ে ঐতিহাসিকরা মুসলিম শাসকদের ইতিহাসকে ইসলামের ইতিহাস বলে চালিয়ে দিয়েছে।  হযরত আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. তারীখে দাওয়াত ও আযীমতনামে ৫ খণ্ডে সমাপ্ত গ্রনে' ইসলামের ইতিহাসের এই শূন্যতার দিকটি পূরণ করে গেছেন। মাওলানা ওমর আলী সাহেব ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রপথিকনামে তা অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যেও এক বড় শূন্যতা পূরণ করেছেন। জাযাহুমাল্লাহু তাআলা আহসানাল জাযা। হযরতের সাড়া-জাগানো গ্রন্থ ‘‘মা যা খাছিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমীন্থগ্রন্থটিও মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারালনামে ওমর আলী সাহেব অনুবাদ করেন।)] অনুবাদ তিনি করেছেন।তবে প্রথম দিকে হযরত নদভী রাহ.-এর সাথে তার প্রত্যক্ষ পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল না। একদিন তাঁর সহকর্মী মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের সাথে কোনো শায়খের কাছে বাইয়াত হওয়া নিয়ে কথা বলাতে তিনি বললেন, ‘আপনার পীর তো আপনার ঘরেই আছেন।জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তা কীভাবে?’ ফরীদ সাহেব বললেন, ‘যাঁর কিতাব আপনি অনুবাদ করেছেন তিনি তো শুধু একজন বিখ্যাত লেখক ও চিন্তাবিদই নন, উঁচু স-রের একজন বুযুর্গ-পীরও বটে।তখন থেকেই মাওলানা ওমর আলী সাহেব হযরত আলী মিয়াকে চিনতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাঁর কাছে বাইয়াতও হয়ে যান। সুযোগ পেলেই ছুটি নিয়ে রমযানুল মুবারকটা পীরের সান্নিধ্যে লক্ষ্মৌর রায়বেরেলীতে এতেকাফে কাটাতে চেষ্টা করতেন। এক রমযানের আগে তিনি ভারত যাচ্ছিলেন। তাঁর অফিস থেকে একসাথেই বাসায় ফিরছিলাম।      যাত্রাবাড়িতে এসে মসজিদে মাগরিবের নামায পড়ে অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে তাঁকে  বললাম, ‘ভাই! এখন বড় কাহতুর রিজালচলছে। বুযুর্গরা ছাড়া অন্যদেরকে মানুষই মনে হয় না। আমরা তো মানুষের পর্যায়ে নেই। কাজেই মেহনত করে একটু বনে আসতে চেষ্টা করবেন আশা করি।তাঁকে কথাগুলো বলার সময় আমার হৃদয়ে ছিল দরদ আর দুচোখে ছিল অশ্রু। তাঁকে বিদায় দিয়ে আমি আমার কুতুবখালির বাসায় চলে গেলাম। ঈদের পর এক দিন  খুব ভোরে তিনি আমার বাসায় উপস্থিত। সালাম- মোসাফাহার পর একপর্যায়ে বললেন, ‘হযরত তাকে খেলাফত দিয়েছেন।যাবার আগে আমার বলা কথাগুলো নাকি তাঁর খুব উপকারে এসেছে। তাই রাতে এসেই ভোরে আমার সাথে দেখা করতে চলে এসেছেন। আবারও আমার দুচোখ থেকে অশ্রু ঝরল। তবে এবার ঝরল আনন্দের অশ্রু।

ওমর আলী সাহেব ছিলেন হযরত আলী মিয়ার প্রথম বাংলাদেশী খলিফা। এর আগে এদেশে হযরতের কোনো খলিফা ছিলেন না। ওমর আলী সাহেব বিনয়ের সাথে বলতেন যে, আমাকে আমল  বা তরক্কীর কারণে হযরত ইজাযত দেননি। হযরতের সন্তান সমতুল্য চিন্তা-ফিকিরের সমাহার যে অমূল্য গ্রন্থরাজিতে, অনুবাদের মাধ্যমে তার সাথে আমার একটা দুর্বল সম্পর্ক থাকায় আমার প্রতি হযরতের শফকতের নযর পড়েছে হয়ত।

ওমর আলী সাহেব সুলুকের পথে মাওলানা ফরীদ সাহেব ও আমাকে অনেকটা পথপ্রদর্শকের মতো মনে করতেন। দেখা হলেই এ বিষয়ে কথা বলতেন এবং সময় সময় কী করবেন, না করবেন এ সম্পর্কেও পরামর্শ চাইতেন। এটা ছিল তাঁর ইনসানিয়াত। আমার আর তাঁর মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তিনি বিনম্রভাবে সব সময় নিজেকে অযোগ্য ভাবতেন এবং আমার মতো বে-সনদ জাহিলের কাছেও পরামর্শ চাইতেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর কী করবেন এ নিয়েও পরামর্শ করবেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন। অবসর গ্রহণের পর কয়েকবার টেলিফোনও করেছিলেন এবং ঢাকায় এলে তাঁর সাথে যেন একটু দেখা করি এই আবদারও রেখেছিলেন। ফোনে আমি শুধু বলেছিলাম, ‘আপনি সময় নিয়ে তাবলীগে বেরিয়ে যান।

ইতিমধ্যে আমার দুবার ঢাকায় যাওয়া হলেও তাঁর সাথে দেখা করা সম্ভব হয়নি। পরের বার ঢাকায় গিয়ে খবর পেলাম, তিনি তিউনিসিয়া সফরে গেছেন। তাই সেবারো দেখা হয়নি। ইনে-কালের কয়েক দিন আগে ফোন করলেন যে, ‘আমি খুব অসুস্থ, হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি আছি। আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। আপনি কি এর মধ্যে ঢাকায় আসবেন?’ আমি বললাম, ‘আমি তো এখন ঢাকাতেই আছি। ইনশাআল্লাহ দেখা করে যাব।দু-একদিনের মধ্যেই গেলাম। পাঁচ তলার বারান্দাতে উঠতেই দেখা হয়ে গেল। বারান্দায় হাঁটতে এসেছিলেন। দেয়ালে হেলান দিয়ে অনেক কথাই বললেন, যার অধিকাংশই ছিল পারিবারিক। সবশেষে বললেন, এনজিওগ্রামের রিপোর্ট পাওয়া গেলে বোঝা যাবে যে, অপারেশন লাগবে কি না। আমিও মনে করলাম, পরে ফোনে জিজ্ঞাসা করে নেব এনজিওগ্রামের রিপোর্ট সম্পর্কে। আমাকে বললেন, ‘দুর্বল লাগছে, বসতে হবে।আমি বললাম, ‘সিটে তো নিশ্চয়ই ভাবি আছেন, আর কোথাও তো বসার জায়গা নেই, আমি যাই, আল্লাহ ভরসা, পরে খবর নেব ইনশাআল্লাহ।বিদায় নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে এলাম।

১৫ আগস্ট অর্থাৎ ৪ রমযান ১০ টার দিকে অনলাইন কওমী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা নূরুল ইসলাম টেলিফোনে আমাকে বললেন, ‘ওমর আলী সাহেব ইন্তিকাল করেছেন।খবরটা প্রথমে অবিশ্বাস্য বলে মনে হল। পরে জানতে পারলাম, অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাই সন্ধ্যারাতে ছোট্ট একটি অপারেশন হয়। আর শেষরাতে ২ টার দিকে সাহরী ও তাহাজ্জুদের খাছ রহমতের সময় এই দায়ী ইলাল্লাহ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের কাছ থেকে চির বিদায় নিয়ে চলে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে গরীকে রহমত করুন। আমীন।

 

এ সংখ্যার প্রচ্ছদ

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে মাহে রমযান