রজব ১৪৩৮ . এপ্রিল ২০১৭

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০৪

একটি মনগড়া রসম : কাফনের উপর ইয়াসীন, কালিমা ও মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়া

কোনো কোনো এলাকায় এই প্রচলন রয়েছে- মায়্যেতের কাফনের উপর সূরা ইয়াসীন, কালিমা ও মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া রসম ও বিদআত।

মৃতের শরীরে বা কাফনে কুরআনের অয়াত, কালিমা, সুওয়াল-জওয়াব ইত্যাদি লেখার কথা কুরআন-হাদীসের কোথাও নেই। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা-তাবেয়ীন কোনো যুগেই এমন কিছুর প্রচলন ছিল না। এর দ্বারা মৃতের কোনো উপকার হয় না। সুতরাং এ মনগড়া রসম ও বিদআত অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

তাছাড়া কাফনে ইয়াসীন, কালিমা ইত্যাদি লেখা হলে লাশ যখন গলে যাবে তখন কাফনের লেখা নাপাক-মিশ্রিত হয়ে যাবে এবং এগুলোর অসম্মানী হবে। সুতরাং এটি করা যাবে না।

আর মনে রাখা চাই, কবরের সুওয়াল-জওয়াব কাফনে লেখা বা মুখস্থ করার বিষয় নয়। এটি আমলের বিষয়; দ্বীন অনুযায়ী চলার মাধ্যমে, আল্লাহর হুকুম যথাযথ পালনের মাধ্যমে, রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী জীবন গঠনের মাধ্যমে কবরের জবাবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। কবরের আযাব থেকে বাঁচার ও আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য যা করা দরকার তা না করে এসকল অর্থহীন রসম-রেওয়াজের পিছে পড়া আর মনে করা, আল্লাহ এর মাধ্যমে নাজাত দিবেন- মূর্খতা বৈ কিছুই নয়, যা দ্বীন সম্বন্ধে অজ্ঞতার ফল। হাদীস শরীফে এসেছে-

الكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ .

 

বিচক্ষণ ঐ ব্যক্তি যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জন্য আমল করে। পক্ষান্তরে অক্ষম ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসারী করে আর আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অলীক আশা পোষণ করে। -জামে তিরমিযী, হাদীস  ২৪৫৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস  ৪২৬০

আরও পড়ুন:   একটি ভুল প্রচলন

সম্মানিত পাঠক!
মাসিক আলকাউসারের ওয়েব পেজটির উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই বর্তমান সংখ্যাটি হালনাগাদ করতে বিলম্ব হচ্ছে। আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ