জুমাদাল উখরা ১৪৩৮ . মার্চ ২০১৭

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০৩

শিশুটির মা-বাবাকে আল্লাহ উত্তম বিনিময় দান করুন

বাসায় যাওয়ার পথে প্রতিবেশী একটি শিশু তার বাবার সাথে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। বয়স আর কত হবে? পাঁচ কি ছয়। প্রায়ই বাসায় যাওয়ার পথে তাদের সাথে দেখা হয়। সালাম বিনিময় হয়। আজ সালাম বিনিময়ের পর শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলাম, চাচ্চু! কেমন আছেন? সে অস্পষ্ট উচ্চারণে বলল, আলহামদু লিল্লাহ। এ কথা বলেই সে আব্বুর দিকে দৌড় দিল। বলল, আব্বু! আমি আলহামদু লিল্লাহ বলেছি! একথা বলে তার খুশি যেন আর ধরে না! 

বিষয়টি আমাকেও আপ্লুত করল। সে আলহামদু লিল্লাহ বলে আব্বুর কাছে দৌড়ে গেল। সে আব্বুকে বলতে চাইল, আব্বু তুমি যে শিখিয়েছ- কেউ কেমন আছজিজ্ঞেস করলে আলহামদু লিল্লাহ বলতে হয়, আমি তা করেছি।

প্রতিটি মা-বাবারই এমন হওয়া উচিত। নিজ সন্তানকে ইসলামিক কালচারে গড়ে তোলার চেষ্টা করা এবং এ বিষয়ে তাদেরকে উৎসাহ দেয়া, পুরস্কৃত করা উচিত। যে সন্তান ইসলামী সংস্কৃতির উপর গড়ে উঠবে এবং ছোট বেলায়ই তা রপ্ত করে ফেলবে সাথে সাথে দ্বীনী সহীহ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে তার হৃদয়ে ঈমান বদ্ধমূল হয়ে যোবে। সে সন্তান সহজে পথহারা হবে না। আর আল্লাহ না করুন, বিজাতীয় কালচারে অভ্যস্ত হলে নিজের মুসলিম সন্তান একসময় ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে, আমল-ইবাদতকে বোঝা মনে করবে, অবজ্ঞা করবে এমনকি যুক্তি দিয়ে অস্বীকার করবে। এটি হয়ত আমাদেরই অবহেলার ফল, যা সন্তানের অনেক বড় সর্বনাশ সাধনেরই নামান্তর; যে কারণে আমরা আফসোস করব দুনিয়াতে ও (অবশ্যই) আখেরাতে।

এ জন্য ছোট্ট একটি কাজ করতে হবে আমাকে। কাজটি ছোট্ট ও সহজ কিন্তু এর প্রভাব অনেক ব্যাপক। এর জন্য আলাদা কোনো মেহনত করতে হয় না। নিজেদের মাঝে যখন কথাবার্তা হবে তখন শিশুর সামনে আলহামদু লিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, জাযাকাল্লাহ ইত্যাদি নিজেরা বলা। সাথে সাথে গল্পের ছলে, কথার ফাঁকে শিশুর সামনে বিষয়টি পেশ করা- বাবা! কেউ কেমন আছজিজ্ঞেস করলে আলহামদু লিল্লাহ বলতে হয়। আবার সময় সময় জিজ্ঞেস করা- আব্বু কেমন আছ? এবং দেখা সে আলহামদু লিল্লাহ বলছে কি না। তেমনি কেউ শিশুটিকে কেমন আছজিজ্ঞেস করল, তো শিশুটিকে উত্তরদানে সাহায্য করা- আব্বু বল, আলহামদু লিল্লাহ, ভালো আছি। আবার কখনো সে নিজে থেকেই আলহামদু লিল্লাহ বলল তো তাকে বাহবা দেয়া, মাশাআল্লাহ বলা।

তেমনিভাবে শিশুকে নিজে সালাম দেয়া। তাকে সালাম এবং সালামের জবাব শেখানো। ফযীলত শোনানো। কোথাও গেলে, কারো সাথে দেখা হলে সালাম দেয়ার অভ্যাস করানো- আব্বু! আসসালামু আলাইকুম বল তো! তুমি তো সালাম দিতে পার। কোনো খেলনা পুরস্কার দেয়া এবং বলা তুমি আজকে সালাম দিয়েছ তাই তোমার জন্য এ খেলনাটি এনেছি।

শিশুটিকে কেউ কিছু উপহার দিল, তখন বলা- আব্বু বল তো জাযাকাল্লাহ! কেউ কিছু দিলে জাযাকাল্লাহ বলতে হয়।

কোনো কাজ করবে বা বেড়াতে যাবে তো শিশুর সাথে বলা- আব্বু ইনশাআল্লাহ, আমরা আজ ওখানে বেড়াতে যাব। বা ইনশাআল্লাহ তোমাকে আব্বু ওটা এনে দিবেন। তেমনি শিশু যখন কারো সাথে এ ধরনের কথা বলবে তো বলা, আব্বু বল, ইনশাআল্লাহ আমি বেড়াতে যাব, ইনশাআল্লাহ আজ দাদু আসবেন। ইনশাআল্লাহ আমি এটা করব। তো এই শিশু বড় হয়ে কখনো বলবে না- ইনশাআল্লাহ, ভালো আছি! (বরং বলবে- আলহামদু লিল্লাহ, ভালো আছি। ইনশাআল্লাহ অমুক কাজটি করব। যেটা যে স্থানে বলা দরকার।)

তেমনি খাওয়ার শুরুতে নিজেরা সন্তানের সামনে আওয়াজ করে বিসমিল্লাহ বলা। খানা শেষে আলহামদু লিল্লাহ বলা এবং শিশুকে শেখানো- আব্বু বিসমিল্লাহ বল, আলহামদু লিল্লাহ বল ইত্যাদি। ঘরে ঢোকা-বের হওয়া, মসজিদে ঢোকা-বের হওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে যত সুন্নত আছে নিজে তার সামনে আমল করা এবং তাকে শেখানো ও আমলের উৎসাহ দেয়া। আমল করলে পুরস্কৃত করা। এভাবে আমার সন্তান বিভিন্ন মাসনূন দুআ এবং দৈনন্দিন জীবনের সুন্নত শিখে নিবে।

 

আরও পড়ুন:   দ্বীনিয়াত

সম্মানিত পাঠক!
মাসিক আলকাউসারের ওয়েব পেজটির উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই বর্তমান সংখ্যাটি হালনাগাদ করতে বিলম্ব হচ্ছে। আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ