জুমাদাল উলা ১৪৩৮ . ফেব্রুয়ারি ২০১৭

চলতি সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০২

মতবাদ : সেক্যুলারিজম

সেক্যুলারিজমের পক্ষে আমাদের মুসলিম অঞ্চলগুলোতে প্রায়শ যে দাবিটি উচ্চারিত হয় তা হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়। ধার্মিক মানুষের কাছে সেক্যুলারিজমের আসল চেহারাটা গোপন রাখার এটা একটা চেষ্টা মাত্র। সেক্যুলারিজম যদি ধর্মহীনতাই না হবে তাহলে ধর্মেই তার এলার্জি কেন এবং ধর্মের বিরুদ্ধে এত অসত্য ও একপেশে তথ্য ও বিশ্লেষণই বা উপস্থাপন করা কেন?

এই মুহূর্তে এই কথাগুলো বলার কারণ একটি জাতীয় দৈনিকের একটি প্রবন্ধ।  দৈনিক প্রথম আলোর ১লা জানুয়ারির বিশেষ আয়োজনে প্রকাশিত ঐ প্রবন্ধের শিরোনাম নতুন বছরে ধর্মের প্রশ্ন। প্রবন্ধটি ইংরেজি থেকে অনূদিত। মূল লেখক তারেক ওসমান।

তিনি একজন সাধারণ সংবাদকর্মী হলেও প্রবন্ধের শেষে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে এভাবে : তারেক ওসমান : ইসলামিজম : হোয়াট ইট মিনস্ ফর দ্যা মিডলইস্ট অ্যান্ড ইজিপ্ট অন দ্যা ব্রিংক গ্রন্থের লেখক। অর্থাৎ মূলত লেখক ইসলাম-ধর্ম-বিশেষজ্ঞ না হলেও ঐ রকম একটা ধারণা দেবার চেষ্টা আছে।

তাছাড়া পরিচিতিতে উল্লেখিত, ইসলামিজম : হোয়াট ইট মিনস্ ফর দ্যা মিডল ইস্টইজিন্ট অন দ্যা ব্রিংক তার দুটো আলাদা বই। একটি বই নয়। যাই হোক প্রবন্ধের শিরোনামে সেক্যুলারিজম না থাকলেও বিষয়বস্ত্ত সেটাই।

সেক্যুলার লেখকেরা যে সকল উপায়ে ধর্ম তথা ইসলামকে আক্রমণ করে থাকেন তার একটি হচ্ছে পরিচয়ের উৎস হিসেবে ধর্ম বা ইসলাম একটি সমস্যা। অথচ যে মানুষটি মুসলিম তার পরিচয়ের উৎস তো ইসলামই। ইসলামকে পরিচয়ের উৎস হিসেবে মেনে নিতে অসুবিধা কেন? পরিচয়ের তো আরো কিছু সূত্র আছে যেমন, ভূখ-, গোত্র-বংশ, রাজনীতি ইত্যাদি, এসবের ভিত্তিতেও পরিচিত হবার ব্যাপক রেওয়াজ আছে। এ সকল পরিচয়ে যদি কোনো সামাজিক সমস্যা না থাকে ধর্মীয় পরিচয়ে থাকবে কেন?

বাংলাদেশে বসবাসকারী একজন মুসলিম বাংলাদেশীও বটে। এটাও তার পরিচয়ের অংশ। এই পরিচয়ের সাথে তার মুসলিম পরিচয়ের কোনো সংঘর্ষ নেই। তিনি বাংলাদেশ নামক ভূখ--র একজন সম্মানিত নাগরিক, একই সাথে মুসলিম উম্মাহরও একজন গর্বিত সদস্য। বাংলাদেশী তার বিশেষ ভূখ-গত পরিচয় আর মুসলিম তার আদর্শগত ও বিস্তৃত মুসলিম জাহানের সদস্যগত পরিচয়। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিও মুসলিম জাহানেরই অংশ। এই বাস্তবতা মেনে নিতে সেক্যুলার বন্ধুদের এত কষ্ট কেন? এতে কি প্রমাণ হয় না যে, মুখে যা কিছুই বলা হোক ধর্মনিরপেক্ষতা আসলে চরম ধর্মহীনতা; বরং ইসলাম বিরোধিতা।

ধর্মীয় পরিচয় শুধু মৌখিক উচ্চারণের ব্যাপার নয়। এটি ব্যক্তি ও জাতির স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা। এই স্বকীয়তা চেতনা ও বিশ্বাসগত এবং সংস্কৃতি ও জীবনাচারগত। কেউ যখন বলেন, আমি মুসলিম তখন তিনি তার চেতনা-বিশ্বাস, আয়-ব্যয়, সামাজিকতা, খাবার-দাবার এবং সংস্কৃতি ও জীবনাচার ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই একটি স্বতন্ত্র সত্তার উপস্থিতি ঘোষণা করেন, যে সত্তার সাথে জড়িত তার আবেগ-অনুভূতি, ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদা। তাই এই পরিচয় বিসর্জন দেওয়া যে আদর্শ, স্বকীয়তা ও আত্মমর্যাদা বিসর্জনেরই প্রথম ধাপ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই ধার্মিক মুসলমানের আত্মপরিচয় নিয়ে নাড়াচাড়া করার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্তত মুসলমানের সংশয় থাকা উচিত নয়।

সেক্যুলার বন্ধুরা যে ইসলামকে অনুদার, বৈচিত্র গ্রহণে অবম প্রভৃতি নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন সেই ধর্মও তো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মীয় জাতিসত্তা বিলুপ্ত করবার চেষ্টা করেনি।

ইসলাম অন্যকে কল্যাণকামিতা থেকে ইসলাম কবুলের দাওয়াত দিয়েছে কিন্তু কখনো ইসলাম কবুলে বাধ্য করেনি। আর না ইসলামের অনুসারী কোনো মুসলিমের তা করার অবকাশ আছে। এর পক্ষে কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতি, মদীনা-সনদের স্পষ্ট ধারা ও ভাষ্য, বাস্তব ইতিহাসের অসংখ্য নজির তুলে আনা যায়। পৃথিবীর যে সকল ভূখ-- শত শত বছর পর্যন্ত ইসলাম রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল ঐ সব ভূখ- ও সমাজও এই বাস্তবতার উজ্জ্বল প্রমাণ যে, অন্য ধর্মের অনুসারীরাও মুসলিমসমাজে যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত ছিল। আর এখনও পর্যন্ত ঐসব অঞ্চলে তাদের বিপুল উপস্থিতি একথাই প্রমাণ করছে যে, একমাত্র ইসলামেই আছে অন্যদের সাথে ন্যায়ভিত্তিক সহাবস্থানের যোগ্যতা ও প্রশস্ততা।

ভারতবর্ষে মুসলমানদের রাজ্য-শাসনের সময়কাল প্রায় হাজার বছর। এরপরও আজ ভারতের অধিবাসীদের ৮০ শতাংশেরও বেশি হিন্দু। আরব জাহানে ইসলামের শাসন-কাল ১৪০০ বছরেরও বেশি। এ সত্ত্বেও আরব খ্রিস্টানের সংখ্যা এখনো প্রায় ১৪ মিলিয়ন। অর্থাৎ এক কোটি চল্লিশ লাখ। এর বিপরীতে স্পেনের কথা চিন্তা করুন, প্রায় ৮০০ বছর মুসলিম শাসনের পর ক্রুসেডাররা যখন ঐ ভূখ-- প্রবেশ করেছে তখন এমনভাবে মুসলিম নিধন করেছে যে, সেখানে তাদের নাম নিশানাও অবশিষ্ট থাকেনি। প্রতিবেশী দেশে মুসলিম নিধনের ভয়াবহ সব ঘটনা ঘটেছে; আসাম, গুজরাট... প্রভৃতি অঞ্চলের ভয়াবহ মুসলিম নিধন যে কোনো বিবেকবান মানুষকে শিহরিত করে। সম্প্রতি মিয়ানমারে মাসের পর মাস রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে। আর তা চলছে সেক্যুলার বিশ্বের নাকের ডগায়। এসবের বিরুদ্ধে সেক্যুলার-সমাজের কোনো মাথা ব্যথা তো নেইই, বরং আশ্চর্যের বিষয় এই যে, অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত এই অমানবিক হত্যা ও রক্তপাতের দায় ইসলাম ও মুসলমানদের উপরও আরোপ করার চেষ্টা করা হয় আর তা করা হয় এক অদ্ভূত সরলীকরণের মাধ্যমে। অর্থাৎ এইসব হত্যা ও বর্বতার কারণ হচ্ছে ধর্ম বা ধর্মান্ধতা। আর ইসলামও একটি ধর্ম কাজেই ইসলামকেও এর দায় নিতে হবে, ইসলামের আদর্শ ও ইতিহাস সম্পূর্ণ আলাদা হলেও এবং উপরোক্ত সহিংসতার ভিকটিমও মুসলিমেরা হলেও! এই সরলীকরণের প্রতারণাটুকু মুসলিমদের উপলব্ধি করা উচিত। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমা সেক্যুলার জগৎ একদিকে তাদের অতীত ও বর্তমানকে ঢাকার প্রয়াস পেয়ে থাকে অন্যদিকে ভিকটিমকেই অভিযুক্ত করার চেষ্টা করে থাকে।

মুসলিম জাহানে সেক্যুলারিজমের প্রচার ও বিস্তারের ক্ষেত্রেও এই ধরনের প্রতারণামূলক সরলীকরণের আশ্রয় নেয়া হয়, যার সারকথা হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়া সেক্যুলারিজমের মাধ্যমে ধর্মের নিগড় থেকে মুক্তি পেয়েছে কাজেই মুসলিম জাহানেরও ধর্ম থেকে মুক্তি অন্বেষণ করা উচিত। অথচ খ্রিস্টবাদ ও ইসলামের মাঝে নীতি-আদর্শ, ইতিহাস ও বাস্তবতার দিক থেকে রয়েছে বিরাট পার্থক্য, যে কারণে পশ্চিমা বিশ্বে সেক্যুলারিজমের কিছু ইতিবাচকতা থাকলেও এবং সেটা তাদের সমস্যার একপ্রকারের সমাধান হলেও মুসলিমসমাজে সেই সেক্যুলারিজমই হবে এক মূর্তিমান সমস্যা। তদ্রম্নপ আদর্শগত শূন্যতার কারণে সেক্যুলারিজম ঐ সমাজ-ব্যবস্থায় খাপ খেয়ে গেলেও মুসলিম সমাজে তা কখনোই খাপ খাবে না। আর তা খাপ খাবে না এই সমাজের আদর্শগত বাস্তবতার কারণেই। ফলে তা এখানে কখনোই টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের মুখ দেখবে না। এ শুধু বিভেদ-বিশৃঙ্খলা এবং রক্তপাত-হানাহানিরই বিস্তার ঘটাবে।

গীর্জা ও মসজিদের ইতিহাস কখনো এক ছিল না। এ কারণে গীর্জার ক্ষেত্রে যা কিছু যথার্থ তা মসজিদের ক্ষেত্রেও যথার্থ হবে এমনটা ভাবা ভুল। মধ্যযুগে গীর্জার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব শুধু ভিন্ন ধর্মীই নয়, স্বধর্মী ভিন্ন মত পোষণকারীদের উপর এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চাকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের যে স্টিম রোলার চালিয়েছে এর কারণে রাষ্ট্রকে গীর্জা থেকে আলাদা করার প্রয়োজন ছিল। এটা খ্রিস্টসমাজের নিজস্ব সমস্যা। ইসলামে মসজিদের ইতিহাস সম্পূর্ণ আলাদা। ভিন্নমতালম্বীই শুধু নয়, ভিন্নধর্মাবলম্বীর প্রতিও ইসলামের উদারনৈতিক অবস্থান এবং  মুসলিম শাসক ও মনীষীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃষ্ঠপোষকতা এক প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস। সত্যকে গোপন করা ছাড়া এ ইতিহাস অস্বীকার করার উপায় নেই।

দ্বিতীয়ত, খোদ খ্রিস্টধর্মের কাঠামোর মধ্যেই ঐ শূন্যতা আছে, যার কারণে রাষ্ট্র থেকে গীর্জাকে আলাদা করা অসুবিধাজনক নয়। প্রচলিত বাইবেলে মাসীহ আ.-এর বাণী- কাইজারের অংশ কাইজারকে দাও আর আল্লাহর অংশ আল্লাহকে জানাচ্ছে যে, খ্রিস্টধর্মে জীবনকে আল্লাহ ও কাইজারের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিতে কোনো অসুবিধা নেই।১ তাছাড়া খ্রিস্টধর্মে নেই পূর্ণাঙ্গ কোনো জীবন-ব্যবস্থাও । যা আছে তা হচ্ছে সপ্তাহে একদিন গীর্জায় হাজিরি দেওয়া ও সামান্য কিছু ধর্মীয় আচার। কাজেই সেক্যুলারিজম ও খ্রিস্টধর্মের মাঝে বড় কোনো সংঘাত হয়নি। সেক্যুলারিজমও খ্রিস্টধর্মকে ঐটুকু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে, খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরাও তাদের জীবনব্যবস্থার শূন্যতা সেক্যুলারিজম দ্বারা পূরণ করে নিয়েছে।

কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয়। একজন মুসলিম জীবনকে দুই রবের মাঝে ভাগ করতে পারে না। মুসলিম জীবনের সকল ক্ষেত্রেই মুসলিম ও আল্লাহর বান্দা। সপ্তাহের একদিন কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন নয়, ইবাদত বন্দেগী থেকে শুরু করে লেনদেন, বিয়ে-শাদী, সামাজিকতা, পর্ব-উৎসব, আইন-বিচার, রাজ্যচালনা সব ক্ষেত্রেই মুসলিমকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলতে হয়।

আল্লাহ তাআলা সম্পর্কেও ইসলামী বিশ্বাস ও খ্রিস্ট বিশ্বাসে আছে বিরাট পার্থক্য; যা এখানে আলোচনা না করলেও চলে। এ কারণে খ্রিস্ট-সমাজে সেক্যুলারিজমের যে অর্থ মুসলিমসমাজে তা নয়। মুসলিম-সমাজে সেক্যুলারিজমের অর্থ ইসলামকে ত্যাগ করা অথচ পশ্চিমা সমাজে তা নয়। সেক্যুলার রাষ্ট্রে্যর সমান্তরালে পোপ ও ভ্যাটিকানের রয়েছে আলাদা শাসন ও সাম্রাজ্য। রয়েছে আলাদা ধর্ম-সেবক ও ধর্ম-প্রচারক। এটা কারো কাছে বৈচিত্র বলে ভ্রম হতে পারে, আসলে তা বৈচিত্র নয়, শূন্যতা। যাই হোক এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে কোনো মুসলিম সমাজে সেক্যুলারিজম কখনো টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে পারেনি, পারবেও  না। আধুনিক তুরস্ক এর এক দৃষ্টান্ত।

থাকল সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ। সেক্যুলার গোষ্ঠী এই প্রসঙ্গটা যত কম তুলবেন ততই তাদের জন্য মঙ্গল। কারণ আজ পর্যন্ত সেক্যুলার সন্ত্রাসীরা পৃথিবীতে যে গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানবতাকে পদদলিত করতে যে মূঢ়তা, শঠতা ও হিংস্রতার পরিচয় দিয়েছে তা ইতিহাসের এক কৃষ্ণ অধ্যায় হয়েই থাকবে। এই বিংশ শতাব্দীর ভয়াবহ সব যুদ্ধ ও হত্যাকা--র অন্যসব ক্ষয়-ক্ষতি বাদ দিয়ে শুধু নিহতের সংখ্যা গণনা করলেও শিহরিত হয়ে যেতে হয়! প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয়েছে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে ছয় কোটি। আর আমেরিকার গণতান্ত্রিক বিল্পবের ৫০ বছরে হত্যা করা হয়েছে কয়েক লক্ষ রেড ইন্ডিয়ানকে। অর্থাৎ মহান আমেরিকা আজ দাঁড়িয়ে আছে লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের উপর। ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন বিপস্নবে, যার সবগুলোই ছিল সেক্যুলার বিপস্নব, নিহত হয়েছে ৮ কোটিরও বেশি মানুষ ।

এটা হচ্ছে চিত্রের এক দিক। অন্যদিকে ইসলামের নামে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রসঙ্গটি অন্য অবসরের জন্য তোলা রইল।

আসলে ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোতে সেক্যুলারিজমের একান্ত নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলোর ব্যাপারেই উদ্বেগের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। এটা অনেকটা সেই মস্তিষ্ক-রোগে আক্রান্ত মানুষটির মতো ব্যাপার, যে তার চারপাশের সবাইকে অসুস্থ আখ্যা দিতে থাকে। তো যে অসুস্থ তাকে না হয় অসুস্থই ধরে নেয়া হল, কিন্তু যে সুস্থ-সচেতন লোকটা ঐ অসুস্থের কথায় বিশ্বাস করে নিজেকে ও অন্য সবাইকে অসুস্থ ঠাওরাতে থাকে তার দাওয়াই কী?

 

১. যদিও মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এটা কখনো হযরত ঈসা আ.-এর প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না।

আরও পড়ুন:   অনৈতিকতা | অপসংস্কৃতি | দ্বীনিয়াত

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ