রবিউস সানি ১৪৩৮ . জানুয়ারি ২০১৭

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১৩ . সংখ্যা: ০১

আমাদের রাজ্য শাসন-১৫

হযরত উসমান রা.

বিজয়সমূহ

ওমর রা.-এর পরে উসমান রা. খলীফা নিযুক্ত হন। উসমান রা. ছিলেন প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাতা। প্রথমে নবীকন্যা রুকাইয়্যাহ রা.-এর সাথে বিবাহ হয়। তাঁর ইন্তিকালের পর রাসূলের অপর কন্যা উম্মে কুলসুম রা.-ও তাঁর বিবাহে আসেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধনী। তবে তাঁর ধন-সম্পদ সর্বদা আল্লাহর পথেই ব্যয় হত। কোনো কোনো যুদ্ধের পুরো ব্যয় তিনি একাই বহন করেছেন।

খলীফা নির্বাচিত হয়েই তিনি এক বলিষ্ঠ ভাষণ প্রদান করেন। আর গভর্ণর ও সেনাপতিদের নিকট এই ফরমান প্রেরণ করেন যে, তারা যেন সর্বাগ্রে প্রজাদের সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেন এরপর ব্যবস্থাপনাগত কার্যক্রম শুরু করেন।

ওমর রা.-এর আমলেই ইরান বিজয় হয়েছিল। কিন্তু ইরান-সম্রাট ইয়ায্দর্গিদ বেঁচে থাকায় বিভিন্ন সংঘাত করে আসছিল। উসমান রা. এ বিষয়ে পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই ইয়ায্দর্গিদ নিহত হয় এবং বিশৃঙ্খলা বন্ধ হয়ে যায়। এর পাশাপাশি খুরাসান, সিস্তান, আফগানিস্তান ও খুওয়ারিযম থেকে নিয়ে সিন্ধু পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা মুসলমানদের দখলে চলে আসে।

আগে থেকেই ইরান জয়ের সুবাদে মুসলমানগণ আরমেনিয়ায় প্রবেশ করে এবং তিফলিস পর্যন্ত জয় করে নেয়। কিন্তু মুসলমানদের কাছে তখন কোনো যুদ্ধ জাহাজ না থাকায় সমুদ্রপথে রোমকদের আক্রমণ প্রতিহত করা খুব কষ্টকর ছিল। শামের গভর্ণর মুআবিয়া রা. বিষয়টি লক্ষ্য করলেন এবং অল্প দিনের ব্যবধানে এক বিশাল নৌবহর তৈরি করে কুবরুছপর্যন্ত দখল করে নেন। এর মধ্য দিয়ে জলে-স্থলে উভয় স্থানেই ইসলামের ঝাণ্ডা উড়তে থাকে।

মিসরও ওমর রা.-এর যুগেই বিজিত হয়। ইসকানদারিয়ার বিষয়ে রোমকদের সাথে সন্ধি হয়েছিল। কিন্তু এখন সুযোগ পেয়ে তারা চুক্তি ভঙ্গ করে এবং সমুদ্রপথে সৈন্য পাঠানো শুরু করে। আমর ইবনুল আস রা. বিষয়টি টের পেয়ে সামনে এগিয়ে তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে শহরটি দখল করে নেন।

২৭ হিজরীতে আমর ইবনুল আস রা.-এর পরিবর্তে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ রা. মিসরের প্রশাসক নিযুক্ত হন। এ বছরই তিনি তরাবলুস (ত্রিপোলি), তিউনিসিয়া, মরক্কো, আলজাযায়েরসহ উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল জয় করেন। এর ফলে মুসলমানদের রাজ্য ইউরোপের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। একই সময়ে তিনি হিসপানিয়াও (স্পেন) আক্রমণ করেন।

রোম সম্রাট হিরাকলও এ সময় তার রাজ্য পুনরুদ্ধারে আরো একবার চেষ্টা চালায় এবং সমুদ্রপথে শামের সীমান্তে আক্রমণ করে। তখন মুসলমানদের কাছে নৌবহর ছিল। আমীরে মুআবিয়া রা. স্বয়ং তাঁর নৌবহর নিয়ে উপস্থিত হন এবং খোলা প্রান্তরে তুমুল সংঘর্ষ হয়। অবশেষে রোমকরা পরাস্ত হয় এবং এরপর আর কখনো হামলার দুঃসাহস করেনি।

প্রাচ্য ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোও ওমর রা.-এর যুগেই বিজিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কোনো অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দিলে উসমান রা. কঠোরভাবে তা দমন করেন। উসমান রা.-এর যুদ্ধাভিযানের মধ্য দিয়ে আর্মেনিয়া, আযারবাইজান ও ইরানের সীমান্তবর্তী অবশিষ্ট অঞ্চল মুসলমানদের দখলে আসে এবং খুরাসান, আফগানিস্তান ও তুর্কিস্তানের কিছু নতুন এলাকা বিজিতি হয়। আর মা-ওয়ারাউন নাহরে মুসলমানগণ আক্রমণ চালালে তারা সন্ধি করে। 

অনুবাদ : আবদুল্লাহ ফাহাদ

আরও পড়ুন:   ইসলামী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা | সীরাত

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ