গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ্ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা-এর মুখপত্র

মাসিক আলকাউসার

জানুয়ারি ২০১৭, রবিউস সানি ১৪৩৭

আল্লাহর জন্য জীবন ও মরণ : আল্লাহ! আমাকে রাখুন ঐ সুড়ঙ্গজয়ীর সাথে

اللهم اجعلني مع صاحب النقب

আল্লাহ! আমাকে রাখুন ঐ সুড়ঙ্গজয়ীর সাথে।

ইমাম ইবনে কুতাইবা১[1]. উয়ূনুল আখবার২. গ্রন্থে লিখেছেন- মাসলামা ইবনে আব্দুল মালিক৩. একটি দূর্গ অবরোধ করলেন। দূর্গপ্রাচীরের এক জায়গায় একটি সুড়ঙ্গ মতো ছিল। তিনি তাঁর সেনানীদের তা দিয়ে প্রবেশে উদ্বুদ্ধ করলেন। কিন্তু কেউ সাহস করছিল না। কারণ দুশমনের কেল্লায় একা প্রবেশের অর্থ নির্ঘাত মৃত্যু। হঠাৎ বাহিনীর মধ্য থেকে এক মুজাহিদ এসে তাতে ঢুকে পড়লেন এবং দূর্গ বিজিত হল। যুদ্ধ শেষে মাসলামা আওয়াজ দিলেন-

أين صاحب النقب؟

ঐ সুড়ঙ্গজয়ী কোথায়?’

কেউ এল না। এরপর তিনি ঘোষণা করলেন, আমি কসম দিয়ে বলছি, সে যেন আসে। আর দ্বাররক্ষীকে বলছি, সে এলে যেন আমার কাছে নিয়ে আসে।

এরপর এক ব্যক্তি দ্বাররক্ষীর কাছে এলেন এবং বললেন-

استأذن لي على الأمير

আমীরের কাছে আমার জন্য প্রবেশের অনুমতি নিন।

দ্বাররক্ষী জিজ্ঞাসা করল-

أنت صاحب النقب؟

আপনিই কি সেই ব্যক্তি?

তিনি বললেন-

أنا أخبركم عنه

আমি তাঁর সম্পর্কে তথ্য  দিব।

দ্বাররক্ষী মাসলামার কাছে এলেন এবং অনুমতি নিলেন।

আগন্তুক মাসলামা রাহ.-কে বললেন-

إن صاحب النقب يأخذ عليكم ثلاثاً : ألا تسودوا اسمه - أي لا تكتبوه-  في صحيفة إلى الخليفة، ولا تأمروا له بشيء، ولا تسألوه : ممن هو؟ أي من أيّة قبيلة هو .

ঐ ব্যক্তি আপনাদের কাছে তিনটি অঙ্গিকার নিতে চান :

এক. তাঁর নাম খলীফার কাছে লিখবেন না।

দুই. তাকে কোনো পুরস্কার দিবেন না।

তিন. তিনি কোন্ গোত্রের তা-ও জিজ্ঞাসা করবেন না।

মাসলামা রাহ. অঙ্গিকার করলেন। আগন্তুক বললেন, আমিই সে।

এই ঘটনার পর থেকে মাসলামা রাহ. প্রতি নামাযের পর দুআ করতেন-

اللهم اجعلني مع صاحب النقب

ইয়া আল্লাহ! আখিরাতে আমি যেন থাকি ঐ সুড়ঙ্গজয়ী মুজাহিদের সাথে। Ñউয়ূনুল আখবার, ১/২৬৬ 

 



[1] ১. ইমাম ইবনে কুতাইবা: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা আদ দীনওয়ারী। ২১৩ হিজরীতে বাগদাদে জন্ম ও ২৭৩ হিজরীর রজবে মৃত্যু। তৎকালীন উলুম-ফুনূনের অন্যতম কেন্দ্র বাগদাদেই তিনি বড় হন ও শিক্ষা লাভ করেন। খতীব বাগদাদী, ইবনে খাল্লিকান, সুয়ূতী, ইবনুল ইমাদ প্রমুখের মতে তিনি একজন বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও মনীষী ব্যক্তিত্ব। তাঁর বিখ্যাত উস্তাযগণের মধ্যে ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুইয়াহ অন্যতম।

২. উয়ূনুল আখবার ইববে কুতাইবা রাহ.-এর বিখ্যাত গ্রন্থ। জীবন ও জগতের নানা বিষয়ে হাদীস ও আছারের পাশাপাশি বিচিত্র অভিজ্ঞতা, জ্ঞানগর্ভ বাণী, শিক্ষণীয় ঘটনা এবং রুচি ও সাহিত্যের নানা উপাদানের এক বর্ণিল সমাহার। এ গ্রন্থটির মোট অধ্যায় দশ। বৈরুতের দারুল কুতুবিল ইলমিয়া থেকে ড. ইউসুফ আলী তবীলের সম্পদনায় ২ খণ্ডে প্রকাশিত।

৩. মাসলামা ইবনে আব্দুল মালিক : বনু উমাইয়ার বিখ্যাত আমীর ও সেনাপতি। স্বীয় যুগের প্রথিতযশা বীর পুরুষ। তাঁর ভাই সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে কুস্তুনতুনিয়া অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁর সম্পর্কে আল্লামা যাহাবী রাহ. এর বক্তব্য-  كان أولى بالخلافة من سائر إخوانه.

সকল ভাইদের চেয়ে ইনিই ছিলেন খিলাফতের বেশি উপযুক্ত। ১২০ মতান্তরে ১২১ হিজরীতে শামে ইন্তিকাল করেন।

(দ্র. সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৬৭; তারিখু মাদীনাতি দিমাশ্ক ৪/৫৮)