রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ . ডিসেম্বর ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ১১

ট্রাম্পের বিজয় : একটি ভিন্ন মূল্যায়ন

অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবং সকল ধারণা ও প্রচারণার বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পই মার্কিন নির্বাচনে বিজয়ী হলেন। এটাই বাস্তব আর এর মধ্য দিয়ে আরো কিছু বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে। আজকের অবসরে সেই বিষয়গুলোই একটু আলোচনা করতে চাই।

আমরা দেখেছি পৃথিবীর শক্তিশালী মিডিয়াগুলো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিল। তার চরিত্রের মারাত্মক নেতিবাচক দিকগুলো- নারী নির্যাতন, ইসলাম-বিদ্বেষ, করখেলাপি হওয়া ইত্যাদি তারা ব্যাপকভাবে প্রচার করেছে। বিপরীতে হিলারীর পক্ষে ছিল বড় বড় মিডিয়া, এমনকি রিপাবলিকানদেরও অনেকে। হিলারীর নির্বাচনী ফান্ডও ছিল ট্রাম্পের চেয়ে বড়। এক কথায় ট্রাম্পকে ঠেকানোর জন্য সব শক্তিশালী মহলই ব্যাপক চেষ্টা করেছে, এরপরও রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ ট্রাম্পই জয়ী হয়েছেন। আমেরিকান জাতি ট্রাম্পকেই নির্বাচিত করেছে। কেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগের জবাব দেয়ার চেষ্টার পরিবর্তে এক সহজ উপায় অবলম্বন করেছেন। যে উপায়টি এর আগে ব্যবহৃত হয়েছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। এককথায় বললে উপায়টি হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। আমাদের প্রতিবেশী দেশে হিন্দুত্ববাদের জোয়ার সৃষ্টি করে  এমন একজন মানুষ নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন, যার হাত অসংখ্য মুসলিমের রক্তে ছিল রঞ্জিত। যার সাম্প্রদায়িক কর্মের কারণে এমনকি আমেরিকান ভিসাও বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিও একই উপায়ে জয়ী হয়েছেন। ট্রাম্প এই উপায়টা আমেরিকান জাতি ও সমাজের উপযোগী করে ব্যবহার করেছেন। তিনি শ্বেতাঙ্গদের পক্ষে বলেছেন, অভিবাসীদের তাড়াবার কথা বলেছেন, বিশেষ অভিবাসী অর্থাৎ মুসলিমদের আমেরিকায় ঢুকতে দেবেন না- এই ঘোষণা দিয়েছেন। এই কথাগুলো যতই অন্যায় হোক, শ্রুতিকটু হোক, নীতি-বিরুদ্ধ হোক তিনি তা পরিষ্কার করেই বলেছেন এবং এরই মাধ্যমে তার প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে গেছেন। কারণ সত্য কথা হচ্ছে, এগুলো ট্রাম্পের একার কথা নয়, বৃহত্তর মার্কিন জাতির মনের কথা। ট্রাম্প নিজেকে তার জাতিরই একজন হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। আর সাম্প্রদায়িকতার ধোঁয়া তুলে জয়ী হওয়ার পরও সমাদৃত হতে তো সময় লাগে না। ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে আগামী জানুয়ারিতে কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলের পরপরই পুরো বিশ্বের নেতাদের অভিনন্দনের হিড়িক দেখেই তা অনুমিত হয়। যেমনটি ঘটেছিল আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে। মি. মোদী নির্বাচনপূর্বে বিশ্বমঞ্চে যত নেতীবাচক খেতাবধারীই থাকুন, হিন্দুত্ববাদের শ্লোগান তুলে বিজয়ের পর পরই তিনি হয়ে গেছেন মহা সমাদৃত ব্যক্তিত্ব। গুজরাটের কথা তখন সবাই বে-মালূম ভুলে গেছেন, এখন যেমন অনেকেই মুখে আনছেন না কাশ্মীর-আরাকানের কথা।

কিন্তু মুসলমানদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এর বিপরীত চিত্র। পাকিস্তানের সেনা শাসক মোশাররফের সময়ে একবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল ইসলামী দলগুলোর কোয়ালিশন মুত্তাহিদা মজলিসে আমল। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা জোট নেতা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মাওলানা ফজলুর রহমানের। কিন্তু বাঁধ সেধেছে বিশ্বের বড় মোড়লেরা। তাদের কথা একজন মাওলানাকে প্রধানমন্ত্রী বানানো যাবে না। পরে জোড়াতালি দিয়ে মোশাররফের দল ক্ষমতায় বসে। একইভাবে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হয়নি প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে, কারণ একটি- তিনি ছিলেন ইসলামপন্থী। অথচ এ দুজন ব্যক্তি ছিলেন শুধুই ইসলামী এবং একই কারণে সম্প্রদায়িকতা বিরোধী। তো ইসলামপন্থী হলেই সাম্প্রদায়িক আর ভিন্ন কেউ চরম সাম্প্রদায়িক হলেও তিনি গ্রহণযোগ্য- এ মানসিকতা বিশ্বের এক শ্রেণির লোকজন কবে পরিহার করবে তা-ই দেখার বিষয়।

এরই সাথে সম্পূরক হিসেবে বলতে পারি; আমেরিকান জনগণ এখনো একজন নারীকে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে রাজি নয়। নির্বাচনের আগে বিবিসির এক ইন্টারভিউতে বাংলাদেশী (চিটাগাংয়ের) বংশোদ্ভুত একজন আমেরিকান বলেছিলেন, আমেরিকা একজন নারীকে সম্ভবত তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে না। আলকাউসারের এ পাতায় ২০০৮ সালে এক লেখায় আমি এ বাস্তবতাই তুলে ধরেছিলাম। বস্তুতঃ নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী উন্নয়ন নিয়ে বড় বড় কথা যারা বলে তারা প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসেও একজন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেনি। জাতীসংঘ এখনো কোনো নারী মহাসচিব আনতে পারেনি। বর্তমান নির্বাচনের ফলাফলও সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি মাত্র।

যাই হোক, ট্রাম্প বৃহত্তর আমেরিকান জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাক্সক্ষার বেশি কাছাকাছি ছিলেন। সুতরাং তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এ বিষয়টি নির্মোহভাবে  উপলব্ধি করতে পারলেই মঙ্গল। আর মুসলিম-স্বার্থের প্রসঙ্গে যদি বলি, তাহলে ট্রাম্প বা হিলারী কাউকেই মুসলমানদের জন্য ইতিবাচক মনে করার সুযোগ নেই। নীতি-আদর্শে এরা কাছাকাছি। হিলারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন মুসলিম বসতিতে ব্যাপক ড্রোন হামলা হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য মুসলিম জনপদ। ধর্মীয় ও নৈতিক বিচারে পৃথিবীর সেরা মুসলিমদের হত্যা করা হয়েছে ড্রোন দিয়ে। ফিলিস্তিনে অব্যাহত থেকেছে নারী ও শিশু হত্যার ধারা এবং ইসরাইলকে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান। মধ্যপ্রাচ্যে অবলম্বিত হয়েছে বিপরীতমুখী নীতি। বিশ্বের নানা দেশে মুসলমানদের উপর যুলুম-অবিচার হয়েছে। সুতরাং ট্রাম্পের বিজয় যেমন মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য খুশির খবর নয়, তেমনি হিলারীর পরাজয়ও খুব বেশি দুঃখের ব্যাপার নয়। মুসলিম স্বার্থ রক্ষার চিন্তা আমাদের মাঝে নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার মধ্য দিয়েই বিকশিত হতে হবে।

سبب تلاش كر و  اپنے ہار جانے كى + كسى كى جيت پہ رونے سےکچھ نہين ہوتا

নিজের পরাজয়ের সঠিক কারণ সন্ধান কর/ দুশমনের জয়ে কেঁদে কেটে কী লাভ হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনেকগুলো শিক্ষা দিয়ে গেছে। এগুলোকে বলা যেতে পারে এই নির্বাচন ও তার ফলাফলের ইতিবাচক দিক। প্রথমত, এই নির্বাচনে মিডিয়ার বাস্তব শক্তির একটা পরীক্ষা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ বলা হলেও শক্তিশালী মিডিয়াগুলো তো নিজেদের খোদার কাছাকাছি মনে করে। এই নির্বাচনী ফলে তাদের দম্ভের বেলুনটা বেশ শব্দ করেই ফাটল। আমেরিকার বড় বড় মিডিয়া সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইম্স, ওয়াশিংটন পোস্ট- সব ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ও হিলারীর পক্ষে কোমর বেঁধে লেগেছিল। হিলারী এসব মিডিয়ায় কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর তালে তালে এ দেশের মিডিয়াগুলোও রিপোর্ট ও উপসম্পাদকীয় করেছে। কিন্তু এদের এই সংঘবদ্ধ লড়াই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এটা সম্ভবত মিডিয়ার কাছেও ছিল অকল্পনীয়।

নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ৯ তারিখ সকালে নেটে ফলাফল দেখছিলাম। বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে বিবিসি, সিএনএন ও আরো কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যমের লাইভ আসছিল। একটা সময়ে দেখা গেল, বিবিসি দেখাচ্ছে, ইলেক্টোরাল ভোটে ট্রাম্প এগিয়ে গেছেন, কিন্তু সিএনএন এখনো আগেরটাই অর্থাৎ হিলারীর এগিয়ে থাকাটাই দেখাচ্ছে। একটু সংশয়ে পড়ে গেলাম- বিবিসি বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম, আর সিএনএন তার নিজ দেশে বসে নিজেদের নির্বাচনের খবর দিচ্ছে অথচ ফলাফল প্রচারে বিবিসি এগিয়ে গেলেও সিএনএন এগুচ্ছে ধীরগতিতে। কারণ কী? কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, আসলে এটা ছিল সিএনএন-এর অসহায়ত্ব। হিলারীর পক্ষে কোমর-বাঁধা প্রচারণার পর ট্রাম্পের বিজয়ের সাথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টা হজম করতে এদের কিছুটা সময় লাগছিল।

মিডিয়ার এই ব্যাপারটা বেশ উপলব্ধি করার মতো। বিশ্বব্যাপী মিডিয়া এখন শক্তিশালী। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। এই শক্তির মোহে মিডিয়া যদি তার সঠিক জায়গাটা থেকে বিচ্যুত হয় সেটা সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক হয় না। মিডিয়া তো সমাজ ও জনগণের চিন্তা-চেতনা ও  আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিনিধিত্বের জন্যেই, একই সাথে উত্তম পরিবর্তনের চেষ্টাও দোষের নয়। কিন্তু এর বিপরীতে মিডিয়া যদি হয়ে ওঠে স্বৈরাচারী, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষার সাথে সম্পর্কহীন, জাতির উপর আলাদা কিছু আরোপের প্রয়াসী তখন সেটা মর্মবেদনার কারণ হয়ে ওঠে। মিডিয়ার এইসব অনাচার বিশেষত মুসলিম ভূখ-গুলোতে ইসলাম ও মুসলিম বৈরিতা দেখে দেখে আমাদের মতো নিরীহ মযলুম যারা এতদিন শুধু ভেবে এসেছি যে, বিশ্বব্যপী আমাদের কথা বলার মতো কেউ নেই, তাদের জন্য এই ঘটনাটা বেশ সুখের বৈকি। মিডিয়া যে সর্বেসর্বা নয়, পরিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাই যে জয়লাভ করে এই বিষয়টি এখানে প্রমাণিত হচ্ছে। এটা আশাবাদী হওয়ার মতোই একটি দৃষ্টান্ত বটে। ব্যাপক জনমত তৈরী করতে পারলে মিডিয়ার সকল শক্তিতে মুহূর্তেই ধ্বস নামার বড় নযীর সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং দেশি-বিদেশী প্রিন্ট-ইলোক্ট্রনিক ও অন্যান্য শক্তিশালী গণমাধ্যমগুলো যতই ইসলাম-বিরোধী মুসলমানদের স্বার্থ-বিরোধী প্রচারণায় নামুক তা দেখে হতাশ না হয়ে ইতিবাচকভাবে নিজেদের কাজ করে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের পরিচয়।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে জরিপ। আমাদের দেশেও নানা বিষয়ে জরিপ হয়। এখন বিশ্বব্যাপী জরিপের ব্যাপক রেওয়াজ রয়েছে। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বহু জরিপ হয়েছে। মিডিয়ার প্রচারণার মতো জরিপের ফলাফলও হিলারীর অনুকূলে ছিল, কিন্তু নির্বাচনের দিন সকল জরিপ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

তো বাস্তবেই অনেক ক্ষেত্রে এসব জরিপে সাধারণ গণমানুষের মতামতের প্রতিফলন  ঘটে না- এর একটি বড়সড় দৃষ্টান্তও এখানে স্থাপিত হল। নিজেদের পছন্দ করা কোনো মত কোনো চিন্তা-আদর্শকে অথবা কোনো ব্যক্তি-দলের প্রতি জনমত সৃষ্টির জন্য অর্থের বিনিময়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে জরিপ করানো, সংবর্ধনা ও সম্মানসূচক পদক ও ডিগ্রি গ্রহণের কৌশল যে এক শ্রেণির লোক গ্রহণ করে থাকে সে কথা আবারো প্রমাণিত হল।

আর সবচেয়ে বড় কথা এই যে, ট্রাম্প তার জাতির জন্য ভবিষ্যতে কী করবেন বা করতে পারবেন সেটা পরের ব্যাপার, তিনি সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে যদি সফলতা পেতে পারেন, যা ইসলামে চরমভাবে বর্জিত ও বর্জনীয়, ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বের খুতবায় পরিষ্কার বলেছেন-

لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى عَجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا أَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى.

আজমীর উপর আরবীর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, এবং নেই আরবীর উপর আজমীর। নেই কালোর উপর সাদার বা সাদার উপর কালোর। শ্রেষ্ঠত্ব শুধু তাকওয়ার ভিত্তিতে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৪৮৯; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৪৭৭৪

তাহলে ইসলামের মহান, উদার, যথার্থ আদর্শকে যদি কেউ অবলম্বন করে জনমত তৈরীর চেষ্টা করেন। হিকমতের সাথে অপশক্তির মোকাবেলা করে কালজয়ী ইসলামী আদর্শ ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন এবং এ কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারেন; বিশেষত ঐ সমাজে  যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইসলামী আদর্শ-প্রেমী, তাহলে তার সফলতা যে অবশ্যম্ভাবী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

যাই হোক, যে বিষয়টিকে সাধারণত একটি নেতিবাচক ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে আমরা মনে করি, এতে উপরোক্ত ইতিবাচক ব্যাপারগুলোও রয়েছে। তবে হাঁ, মুসলমানদের  সচেতনতা ও আদর্শের দিকে প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তা যে দিন দিন বাড়ছে তা তো বলাই বাহুল্য। একইসাথে তাদের কথাও বিবেচনাযোগ্য, যারা ট্রাম্পকে আমেরিকার গর্বাচেভ হিসেবে আশংকা ব্যক্ত করেছেন। গত শতাব্দীর পৃথিবীর পরাশক্তি আধিপত্যবাদী সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা মিখাইল গর্বাচেভের হাতে যাওয়ার পর তার পতন হয়েছিল। অনেকে ভাবছেন ট্রাম্পও আমেরিকার জন্য গর্বাচেভ হিসেবেই আবির্ভূত হবেন। তার অহমিকা, হঠকারিতা ও অতি সাম্প্রদায়িকতা এবং আমেরিকাকে গ্রেট করার উচ্চাভিলাষ আমেরিকার জন্য সাপে বর হয়েই দেখা দেবে। তাদের ধারণা কতদূর সত্য তা ভবিষ্যতই বলবে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ট্রাম্পের মতো লোকেরা যে জাতির পরিচালক হয় সেই জাতির পতন কিছু না কিছু ত্বরান্বিত হয়েই যায়। ইতিহাস বলে, অতীত পৃথিবীর কোন সাম্রজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদই নিজেদের পতন ঠেকাতে পারেনি। ফেরাউনী সাম্রাজ্য, রোমান সাম্রাজ্য, পারস্য সাম্রাজ্য এমনকি নিকট অতীতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়ও নয়।

اگر نہ آج سہی کل ضرور ٹوٹیگا + غرور کس کا رہا ہے  غرور ٹوٹیگا۔

আরও পড়ুন:   অনৈতিকতা | অপসংস্কৃতি | পর্যবেক্ষণ

হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ